• facebook
  • twitter
Friday, 2 January, 2026

এসআইআর তালিকায় ‘মৃত’ দেখানো তিন জনকে মঞ্চে তুলে কমিশনকে কটাক্ষ অভিষেকের

অভিষেক বলেন, ‘বড় লড়াইয়ের আগে মা-বাবার আশীর্বাদ নিতে হয়। কালীঘাট আমার জন্মভূমি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা আমার কর্মভূমি। এই মাটিতেই লড়াই শুরু করলাম।’

ছবি: এএনআই

২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটকে সামনে রেখে জেলা সফরের সূচনা করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে জনসভা দিয়ে তাঁর জানুয়ারি মাসব্যাপী কর্মসূচির সূচনা করলেন। ফুলতলা সাগরসঙ্ঘের মাঠে আয়োজিত এই সভা থেকেই নির্বাচন কমিশন, বিজেপি এবং বিরোধীদের বিরুদ্ধে একের পর এক তোপ দাগেন। জানুয়ারি মাস জুড়ে রাজ্যের সব জেলায় যাওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে অভিষেক স্পষ্ট করে দেন, এ বার মাঠে নেমে সরাসরি লড়াই-ই তাঁর লক্ষ্য।

এদিনের সভামঞ্চ থেকে দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে গিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে তাঁর বাদানুবাদের প্রসঙ্গ টেনে আনেন অভিষেক। বলেন, ‘আমার সঙ্গে আঙুল তুলে কথা বলা হয়েছিল। আমি বলেছি, আপনি মনোনীত, আমি নির্বাচিত। বাঙালি কি দিল্লিতে গিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছি। এর পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাবেন।’ তাঁর অভিযোগ, কমিশন বিজেপির ইশারায় কাজ করছে।

Advertisement

এসআইআর বা বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া ঘিরে আতঙ্কের কথাও তুলে ধরেন তিনি। গত কয়েক সপ্তাহে রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে ভোটার এবং বিএলও-র মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে বলে দাবি করে সেই পরিবারগুলির প্রতি সমবেদনা জানান অভিষেক। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। সভার মাঝেই ‘এসআইআর-এর তালিকায় মৃত’ দেখানো দু’জন পুরুষ ও এক জন মহিলাকে র‌্যাম্পে তুলে আনেন তিনি। মেটিয়াবুরুজ ও কাকদ্বীপের ওই তিন জন— মনিরুল মোল্লা, হরেকৃষ্ণ গিরি ও মায়া দাস। এই তিন ভোটার নিজেদের পরিচয় দিয়ে বলেন, তাঁরা জীবিত আছেন, অথচ তালিকায় মৃত দেখানো হয়েছে। এই দৃশ্য দেখিয়ে অভিষেক কটাক্ষ করেন, ‘কাগজে ভূত বানানো হচ্ছে মানুষকে।’

Advertisement

মঞ্চ থেকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে কটাক্ষ করে ‘ভ্যানিশ কুমার’ বলে সম্বোধন করেন অভিষেক। তিনি বলেন, ‘প্রস্তুত থাকুন ভ্যানিশ কুমার। তৃণমূল প্রস্তুত, আমরা দিল্লি আসছি। তৃণমূলের এক-তৃতীয়াংশ কর্মী-সমর্থক দিল্লি গেলে জ্ঞানেশ কুমার আর অমিত শাহ জলে ভেসে যাবেন।’ তাঁর কথায় স্পষ্ট, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে দিল্লি পর্যন্ত আন্দোলনে নামতে প্রস্তুত তৃণমূল।

বিজেপির অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গে লাগাতার অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অভিষেক বলেন, ‘ওরা বাংলাকে রোহিঙ্গা আর বাংলাদেশিতে ভরা বলে বদনাম করছে। আমি জ্ঞানেশ কুমারকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, কত জন বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গাকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। উনি তখন আমার দিকে আঙুল তুলতে শুরু করেন। আমি বলেছি, আঙুল নামান—আপনি মনোনীত, আমি নির্বাচিত।’

নির্বাচন কমিশনের আচরণ নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, ‘মানুষ মারা যাচ্ছে, আর নির্বাচন কমিশন চায় রাজনীতিকরা ফুল নিয়ে দেখা করতে যাবে। এটা তৃণমূল। এ বার আমি দিল্লি গিয়েছি, পরের বার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাবেন। তখন কী করবেন? এই নির্বাচন শুধু হারানোর নয়, বাংলা-বিরোধীদের শিক্ষা দেওয়ার নির্বাচন।’

অমিত শাহের ‘সোনার বাংলা’ মন্তব্য নিয়েও কড়া প্রশ্ন তোলেন অভিষেক। তাঁর কথায়, ‘কয়েক দিন আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন, উনি বাংলা সোনার বাংলা বানাবেন। তা হলে বিহার, ত্রিপুরা, অসম কেন সোনার রাজ্য হল না?’ একই সঙ্গে মধ্যপ্রদেশে দূষিত জল পান করে মৃত্যুর ঘটনার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিজেপি শাসিত রাজ্যে বিষাক্ত জল খেয়ে মানুষ মারা যাচ্ছে। যারা মানুষকে জল পর্যন্ত দিতে পারে না, তাদের মানুষের অধিকারের কথা বলার কোনও অধিকার নেই।’

এসআইআর বা বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রসঙ্গেও বিজেপিকে নিশানা করেন অভিষেক। তাঁর অভিযোগ, ‘এসআইআর-এর মাধ্যমে বিজেপি বাংলার মানুষের অধিকার কাড়তে চাইছে। মানুষই ওদের উপযুক্ত বিদায় দেখাবে।’

বারুইপুর থেকে রাজ্যব্যাপী বৃহৎ প্রচার অভিযানের সূচনা করে অভিষেক জানান, তিনি ধারাবাহিক ভাবে বিভিন্ন জেলায় যাবেন। বলেন, ‘আজ বারুইপুর থেকে এই বড় লড়াই শুরু করলাম। আগামী দিনে আলিপুরদুয়ার সহ রাজ্যের নানা জেলায় যাব। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৈনিক হিসেবে আপনাদের সঙ্গে মাঠে নেমেই লড়ব।’

বাংলাদেশ প্রসঙ্গেও বিজেপিকে আক্রমণ করেন অভিষেক। শুভেন্দু অধিকারীর একটি মন্তব্যের উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘শুভেন্দু বলছেন, ইউনূসের সরকার নাকি বাংলার চেয়ে ভাল চলছে। বাংলাদেশে দীপু দাসকে নৃশংস ভাবে হত্যা করা হয়েছে, আর বিজেপির নেতা সেখানে ভাল শাসনের কথা বলছেন। এটাই কি বিজেপির হিন্দুত্ব? যারা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আর বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে অপমান করে, তারা কি বাংলা রক্ষা করবে?’

বারুইপুরের সভা থেকে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে অভিষেক জানান, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কোনও আপসের পথে হাঁটবে না এবং বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র হবে।

Advertisement