মানস আর ব্যানার্জি, সিদ্ধার্থ রায়, নীতিশ কাপুর
কলকাতা ও দিল্লি: দিল্লির পর এবার পশ্চিমবঙ্গেও একটি মদের কেলেঙ্কারির ঘটনা সামনে এসেছে। ২০১৭ সালে রাজ্যের মদনীতি পরিবর্তন করা হয়, অভিযোগ অনুযায়ী, অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস (AITC)-এর সর্বোচ্চ নেতা এবং তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইচ্ছাতেই এই পরিবর্তন আনা হয়, যার ফলে রাজ্য মদের সরবরাহ ব্যবস্থার উপর একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে।
নতুন এই নীতিটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল যাতে আগের বেসরকারি পাইকারী বিক্রেতাদের উপর চাপ সৃষ্টি করে তাদের কাছ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকার লেভি আদায় করা যায়।
আবগারি দপ্তরের তৈরি একটি গোপন রিপোর্ট ‘দ্য স্টেটসম্যান’ পত্রিকার হাতে এসেছে। সেই রিপোর্ট অনুযায়ী, রাজ্যের রাজস্বের এই পুনর্বণ্টন করা হয়েছিল “সিন্ডিকেট বন্ধ করা, স্বচ্ছতা বজায় রাখা, রাজ্যের সব জায়গায় সমানভাবে মদের সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং ভোক্তাদের পছন্দের সুযোগ বাড়ানোর” নামে।
‘দ্য স্টেটসম্যান’ আরও জেনেছে যে এই রিপোর্ট ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়ালের কাছে পেশ করা হয়েছে, এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও এ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সহ-দায়িত্বপ্রাপ্ত অমিত মালবীয় ‘দ্য স্টেটসম্যান’-কে বলেন, “যারা পশ্চিমবঙ্গকে লুট করেছে, তাদের নিজেদের কাজের জবাব দিতে হবে।”
মালবীয় বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের মদের কেলেঙ্কারির যে তথ্য সামনে আসছে, তা তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে গভীরভাবে প্রোথিত দুর্নীতির সংস্কৃতির ইঙ্গিত দেয়। অভিযোগ অনুযায়ী, একটি চক্র রাজনৈতিক আশ্রয়ে কাজ করছিল, যার কেন্দ্রে ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, এবং সবকিছু ঘটছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নজরদারির মধ্যেই।
<iframe src=”https://www.facebook.com/plugins/post.php?href=https%3A%2F%2Fwww.facebook.com%2FDainikStatesmanofficial%2Fposts%2Fpfbid0ZBxqjmt3y15G3StrWi86K4Bve2TMvNL28qDGmwwSkWXmSXYrN4XWqTS72KwigMBzl&show_text=true&width=500″ width=”500″ height=”679″ style=”border:none;overflow:hidden” scrolling=”no” frameborder=”0″ allowfullscreen=”true” allow=”autoplay; clipboard-write; encrypted-media; picture-in-picture; web-share”></iframe>
আইএফবি-র অভিযোগটি কোনও ব্যক্তিগত অভিযোগ ছিল না, এটি স্টক এক্সচেঞ্জে জানানো হয়েছিল এবং জনসমক্ষে আনা হয়েছিল। সত্য আর চাপা রাখা যাবে না।
যারা পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে লুট করেছে এবং ব্যবসায়ীদের থেকে জোর করে অর্থ আদায় করেছে, তাদের জবাবদিহি করতেই হবে। আইন নিজের পথেই চলবে, এবং যে-ই এই ঘটনায় জড়িত থাকুক না কেন, পদ বা প্রভাব যাই থাকুক, তাদের নিজেদের কাজের জবাব দিতে হবে।”
এখানে যে গোপন রিপোর্টের উল্লেখ করা হয়েছে, তাতে পুরো অপারেশনের কার্যপদ্ধতি বিশদে তুলে ধরা হয়েছে।
২০১৭ সালে একটি বিশেষ সংস্থা— ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট বেভারেজেস কর্পোরেশন লিমিটেড (WBSBCL)— গঠন করা হয়, যাতে বেসরকারি পাইকারদের, যাদের ‘ট্রেডস’ বলা হতো, তাদের বদলে দেওয়া যায়। এই ‘ট্রেডস’-দের হাতে বিদেশি মদ এবং বিয়ারের বিতরণের অধিকার ছিল। তারা ১৯০৯ সালের বেঙ্গল এক্সসাইজ আইনের অধীনে লাইসেন্স পেত।
রিপোর্ট অনুযায়ী, WBSBCL-এর মাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকার মদের ব্যবসা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। এর আগে পশ্চিমবঙ্গে মদের ব্যবসা চালাত ৫৫টি ‘ট্রেডস’, যারা স্বাধীনভাবে এবং প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করত।
এই ব্যবস্থায় উৎপাদকরা তাদের ব্যবসার শক্তি (বা দুর্বলতা) অনুযায়ী ৫৫টি লাইসেন্সপ্রাপ্ত ‘ট্রেডস’-এর মধ্যে থেকে নিজেদের ব্যবসায়িক অংশীদার বেছে নিতে পারত। অন্যদিকে খুচরো বিক্রেতারাও একাধিক সরবরাহ কেন্দ্রের মধ্যে থেকে পছন্দ করার স্বাধীনতা পেত। সব মিলিয়ে, ২০১৭ সালের আগের এই ব্যবস্থা ছিল “ন্যায্য বাণিজ্য পদ্ধতি, সুস্থ প্রতিযোগিতা এবং শেষ পর্যন্ত খুচরো লাইসেন্সপ্রাপ্ত দোকানে সময়মতো মদ সরবরাহের” উপর ভিত্তি করে।
WBSBCL চালু হওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। নতুন ব্যবস্থায় এক নতুন ধরনের পরিবেশক (ডিস্ট্রিবিউটর) আনা হয়, যারা বোতলজাতকারী সংস্থাগুলোর কাছ থেকে জোর করে অর্থ আদায় করত। অভিযোগ অনুযায়ী, এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল তৎকালীন আবগারি কমিশনার উমা শঙ্কর এস-এর তত্ত্বাবধানে, যিনি নাকি বর্তমানে বিতর্কে জড়ানো তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে কাজ করছিলেন। রিপোর্টে বলা হয়েছে, আবগারি দপ্তরের কয়েকজন শীর্ষ আধিকারিকের ঘনিষ্ঠ যোগসাজশে এই পুরো ব্যবস্থা চালানো হতো।
“… বিকেন্দ্রীকৃত ব্যবসা, ন্যায্য বাণিজ্য পদ্ধতি, সুস্থ প্রতিযোগিতা এবং একাধিক সরবরাহ কেন্দ্রের ধারণা বদলে গিয়ে একচেটিয়া ব্যবসার মডেলে পরিণত হয়,” রিপোর্টে এমনই মন্তব্য করা হয়েছে।
রিপোর্টে দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয়েছে, এমনকি বলা হয়েছে যে “এই ধরনের ডিস্ট্রিবিউটর চালু করার পুরো নীতিটাই তৈরি করা হয়েছিল ‘সরকারি কোষাগারের জন্য রাজস্ব সংগ্রহ’-এর নামে আসলে তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য টাকা সরিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে।”
অভিযোগ অনুযায়ী, ডিস্ট্রিবিউটররা তাদের লাভের একটি অংশ, যা সরকারের কোষাগারে যাওয়ার কথা ছিল, তা তৃণমূল কংগ্রেসকে দিত। প্রতি ক্রেটের জন্য ৪ টাকা করে গুদাম ভাড়া এবং ৩ টাকা করে পরিবহণ খরচ নেওয়া হতো। বোতলজাতকারী সংস্থা এবং বিদেশি মদ প্রস্তুতকারকদের এই অত্যধিক গুদাম ভাড়া ও পরিবহণ খরচ দিতে বাধ্য করা হতো।
<iframe src=”https://www.facebook.com/plugins/post.php?href=https%3A%2F%2Fwww.facebook.com%2FDainikStatesmanofficial%2Fposts%2Fpfbid032JsG4urQ3R3gwFRe76iLXkAfvF8TwPfuNoYe3cnPkwo6TrJTn88Y5t6zUsAeBTfl&show_text=true&width=500″ width=”500″ height=”654″ style=”border:none;overflow:hidden” scrolling=”no” frameborder=”0″ allowfullscreen=”true” allow=”autoplay; clipboard-write; encrypted-media; picture-in-picture; web-share”></iframe>
রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই অর্থ পৌঁছে যেত ৯, ক্যামাক স্ট্রিটে, যা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিস।
সূত্রগুলি ‘দ্য স্টেটসম্যান’-কে আরও জানিয়েছে, যে সব বোতলজাতকারী সংস্থা প্রতিবাদ করেছিল, তাদের চাপ দিয়ে এই লুটের ব্যবস্থায় শামিল হতে বাধ্য করা হয়েছিল। এর একটি উদাহরণ হল আইএফবি অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।
আইএফবি অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড সম্প্রতি, ১৮ মে তারিখে, পশ্চিমবঙ্গের আবগারি কমিশনারকে একটি তীব্র ভাষায় লেখা চিঠি পাঠায়, যেখানে এই নতুন মদ বিতরণ ব্যবস্থার আওতায় চলা জোরপূর্বক অর্থ আদায় ও তছরুপ অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানানো হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, যেহেতু নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেছে, “আমাদের বিশ্বাস, নতুন সরকার আপনাকে এবং অন্যান্য আবগারি আধিকারিকদের এই ধরনের কাজ করতে দেবে না।”
‘দ্য স্টেটসম্যান’-এর হাতে থাকা ওই চিঠি, যার একটি অনুলিপি মুখ্যসচিব আগরওয়ালের কাছেও পাঠানো হয়েছিল, তাতে বলা হয়েছে যে এই বিষয়ে সংস্থাটি আগেও একাধিকবার দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে—১৩.০১.২০২৫; ০৪.০২.২০২৫; ০৮.০৫.২০২৫ এবং ০৮.০৭.২০২৫ তারিখে লেখা চিঠিসহ বিভিন্ন সময়ে পাঠানো অন্যান্য বার্তার মাধ্যমে— যেখানে “কিছু আবগারি আধিকারিকের বেআইনি হস্তক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ” জানানো হয়েছিল, যা তাঁরা তাঁদের অবৈধ দাবির সঙ্গে সঙ্গতি না রাখায় সৃষ্টি হয়েছিল।
আমরা নিশ্চিত, আপনি উত্থাপিত বিষয়গুলির উপর প্রয়োজনীয় তদন্ত করেছেন।
আমাদের অনুরোধ, এই বিষয়ে কী তথ্য পাওয়া গেছে এবং এই ধরনের কাজে যুক্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা আমাদের জানাবেন।
এছাড়াও, আমরা আপনার সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই যে, আমাদের আগের বার্তাগুলিতে উত্থাপিত বিষয়গুলির প্রেক্ষিতে এবং আগেই যেমন জানানো হয়েছে, এই ব্যবস্থা পুরোপুরি আপনার নির্দেশের ভিত্তিতেই করা হয়েছিল, এবং এর ফলে আমরা বাধ্য হয়েছি এই বিষয়ে আপনার নেওয়া পদক্ষেপগুলি নতুন সরকারকে জানাতে,”—চিঠিতে সংক্ষিপ্তভাবে এমনটাই বলা হয়েছে।
প্রকাশনার সময় পর্যন্ত ‘দ্য স্টেটসম্যান’-এর একাধিক ফোন কল এবং টেক্সট মেসেজ সত্ত্বেও আইএফবি অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের পক্ষ থেকে কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
খবর অনুযায়ী, সংস্থাটিকে চাপ দেওয়ার জন্য তাদের বোতলজাত কারখানাটি জোর করে বন্ধ করে রাখা হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেসের ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’-এর মূল ব্যক্তি জাহাঙ্গীর খানের মাধ্যমে।
সূত্রের দাবি, দেশি মদের ক্ষেত্রেও বোতলপ্রতি ৩ টাকা হারে বোতলজাতকারী সংস্থাগুলোর কাছ থেকে জোর করে অর্থ আদায় করা হতো।
যে নীতি নথির মাধ্যমে WBSBCL চালু করা হয়েছিল, তা তৈরি করেছিলেন পাঁচজন আধিকারিক:
1. গৌতম ঘোষ, (অবসরপ্রাপ্ত প্রমোটেড আইএএস), তৎকালীন স্পেশাল কমিশনার (রাজস্ব) ও জেনারেল ম্যানেজার (অপারেশনস), WBSBCL। (যিনি কয়েকদিন আগেও অর্থ দপ্তরে বর্ধিত মেয়াদে কর্মরত ছিলেন)
2. শান্তনু আচার্য, WBRS, সিনিয়র জয়েন্ট কমিশনার অব রেভিনিউ এবং তৎকালীন ম্যানেজার (অপারেশনস), WBSBCL।
3. সঞ্চয়ন গাঙ্গুলি, WBRS, ডেপুটি কমিশনার অব রেভিনিউ এবং তৎকালীন ম্যানেজার (সিস্টেমস), WBSBCL
4. সুদেষ্ণা চক্রবর্তী, WBRS, স্পেশাল এক্সসাইজ কমিশনার।
5. নীলাঞ্জনা বন্দ্যোপাধ্যায়, WBRS, অ্যাডিশনাল এক্সসাইজ কমিশনার, যিনি আবগারি দপ্তরে কর্মরত ছিলেন।
এই ব্যক্তিরাই নতুন নীতিতে সই করেছিলেন, যেখানে WBSBCL গঠনের সুপারিশ করা হয়েছিল।
জনসাধারণের কোষাগারের ক্ষতি হয়েছে— এমন স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায় এই ঘটনায়, কারণ এককালীন শুল্ক আদায়ের ধারণা, অর্থাৎ উৎসস্থলেই (কারখানা/বোতলজাত কেন্দ্র) সম্পূর্ণ শুল্ক সংগ্রহ, যা সাধারণত সবচেয়ে নিরাপদ রাজস্ব আদায়ের পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত হয়, তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তার বদলে একটি দ্বিস্তরীয় ব্যবস্থা চালু করা হয়— একটি স্তরে কারখানা বা বোতলজাত কেন্দ্রে আবগারি শুল্ক সংগ্রহ এবং অন্য স্তরে ডিস্ট্রিবিউটরের মাধ্যমে বাকি অতিরিক্ত আবগারি শুল্ক আদায়।
রাজ্য সরকারের কাছে থাকা গোপন রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই দ্বিস্তরীয় পদ্ধতির ফলে “আবগারি রাজস্ব আদায়ে বিলম্ব হয়েছে; এবং WBSBCL-এর বিতরণ ব্যবস্থায় হঠাৎ বিঘ্ন ঘটেছে, কারণ বেসরকারি ডিস্ট্রিবিউটররা প্রায়শই তাদের লাভ-ক্ষতির হিসাবে পর্যাপ্ত অতিরিক্ত আবগারি শুল্ক বজায় রাখতে ব্যর্থ হতো।”
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে একাধিক ফোন কল এবং টেক্সট মেসেজের মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
‘দ্য স্টেটসম্যান’ পশ্চিমবঙ্গের আবগারি কমিশনার কৌশিক ভট্টাচার্যের সঙ্গে যোগাযোগ করে ২০১৭ সালে WBSBCL-এর মাধ্যমে কার্যকর করা ব্যাপক মদ-নীতির পরিবর্তন সম্পর্কে জানতে চায়, যা অভিযোগ অনুযায়ী সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেস এবং তার নেতাদের আর্থিকভাবে লাভবান করেছিল।
কৌশিক ভট্টাচার্য ‘দ্য স্টেটসম্যান’-কে জানান, এই বিষয়ে কথা বলার অনুমতি তাঁর নেই। তিনি বলেন, “আমি এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করব না। স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে যে শুধুমাত্র অনুমোদিত মুখপাত্ররাই সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। আমি অনুমোদিত মুখপাত্র নই।”
প্রাক্তন আবগারি কমিশনার উমা শঙ্কর এস, যিনি ২০২১-২২ সালে দায়িত্বে ছিলেন এবং বর্তমানে অর্থ দপ্তরে কর্মরত, এই বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “এটি সরকারের নীতি ছিল। এটি আমার নীতি ছিল না। এ বিষয়ে আমার কথা বলা উচিত নয়। আসলে, সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার অনুমতিও আমার নেই।”
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ২১ পাতার ওই নীতি নথিতে সই করা একজন আধিকারিক জানান, অর্থ দপ্তরের নির্দেশেই এই কমিটি গঠন করা হয়েছিল।
তিনি ‘দ্য স্টেটসম্যান’-কে বলেন, “যতদূর আমার মনে পড়ে, অর্থ দপ্তর নির্দেশ দিয়েছিল একটি কমিটি গঠন করতে। সম্ভবত আমি সেই কমিটির একজন সদস্য ছিলাম। কমিটি বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখে এবং রাজ্য সরকারের কাছে সুপারিশ জমা দেয়। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের হাতেই ছিল।”
গৌতম ঘোষ, কুণাল বিশ্বাস, রাজর্ষি চক্রবর্তী এবং সঞ্চয়ন গাঙ্গুলি ‘দ্য স্টেটসম্যান’-এর ফোন ধরেননি, এবং বার্তারও কোনও উত্তর দেননি। শান্তনু আচার্যের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
উচ্চপর্যায়ের সূত্রগুলি ‘দ্য স্টেটসম্যান’-কে জানিয়েছে যে, মদের বোতলজাতকারী সংস্থাগুলি এই বিষয়টি রাজ্য সরকারের সামনে তোলার জন্য একত্রিত হচ্ছে। “আমরা আমাদের টাকা ফেরত চাইব—যে টাকা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দুর্নীতিগ্রস্ত আবগারি আধিকারিকদের যোগসাজশে আমাদের কাছ থেকে বেআইনিভাবে আদায় করা হয়েছিল। আমাদের ক্ষতির জন্য আমাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত,” এক শীর্ষ মদ- বোতলজাতকারী সংস্থা জানিয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এই দাবিকে ঘিরে একটি বড় আন্দোলনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।