কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির সংলগ্ন দিঘিতে ভেসে উঠেছে একটি লাশ। শনিবার সকালে এই লাশ প্রথমে দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। তা দেখে সকলে চমকে যান। তাও আবার যুবকের লাশ। কে এই যুবক? কেমন করে যুবক এখানে এল? এটা খুন নাকি দুর্ঘটনা? যদি খুন হয় তাহলে কে বা কারা করল? খুন হয়ে থাকলে তা কেউ জানতে পারল না! এটাও ভাবিয়ে তুলেছে পুলিশকে। যদিও একটা অংশ বলছে, স্নান করতে নেমে তলিয়ে গিয়েছে ওই যুবক। জল ঠাণ্ডা থাকায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ওই যুবক মারা গিয়েছেন বলে আর একটা অংশের ধারণা।
স্থানীয় বাসিন্দারাই পুলিশে খবর দেন। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এই যুবক স্থানীয় বাসিন্দা নন। সুতরাং এখানে এসে স্নান করার কোনও যুক্তি দাঁড়াচ্ছে না। আর স্থানীয় বাসিন্দারা এই যুবককে চেনেন না। তাই মনে করা হচ্ছে, ওই যুবককে অন্য জায়গা থেকে নিয়ে এসে খুন করে এখানে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এই কাজ কে বা কারা করল সেটা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। আদৌ এটা খুন নাকি অন্য কিছু সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে খবর, শনিবার সকালে কৃষ্ণনগর রাজবাড়ি এলাকায় যে দিঘি আছে সেখান থেকে উদ্ধার হয়েছে অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের দেহ। দিঘিতে এক যুবকের দেহ ভাসতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা খবর দেন। ভিড় জমে যায় দিঘির ঘাটে। গোটা ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে আরও খবর, শনিবার কৃষ্ণনগরের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের রাজবাড়ি দিঘির ঘাটে জল থেকে এক যুবকের দেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁরা খবর দেন কোতোয়ালি থানায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। আর যুবকের দেহটি দিঘি থেকে উদ্ধার করে শক্তিনগর হাসপাতালে পাঠানো হয়। অনুমান করা হচ্ছে, ওই যুবকের বয়স আনুমানিক ৪০ বছর। তাঁর নাম ও পরিচয় এখনও জানা যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশকে জানিয়েছেন, তাঁরা ওই যুবককে কখনও আগে এলাকায় দেখেননি। পুলিশ ওই যুবকের পরিচয় জানার চেষ্টা করছে।
তাছাড়া যুবক কোথা থেকে রাজবাড়ি এলাকায় এলেন? পুকুরে গেলেন কেমন করে? তাঁর মৃত্যু ঘটল কেমন করে? সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ। যুবকের দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই সবটা পরিষ্কার হবে বলে মনে করছে পুলিশ। এই বিষয়ে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘রাজবাড়ির ঘাটে সকালে একটি যুবকের দেহ ভাসতে দেখেন সকলেই। আমিও দেখেছি। পুলিশে খবর দেওয়া হয়। দেহ উদ্ধার করা হলে কেউ ওই যুবককে চিনতে পারেনি। পুলিশ তদন্ত করে কী ঘটেছে তা সামনে নিয়ে আসুক।’