ঠিক যে সময়ে ভেঙে পড়ল ছাদ, তারাতলা কাণ্ডে সামনে এল ভয়াবহ দৃশ্য

ছবি: বিশ্বজিৎ ঘোষাল

তারাতলা বন্দরের জমিতে বেহরা ব্রাদার্সের তৈরি করা গোডাউন ভেঙে গিয়েছে। আটকে রয়েছেন বিপুল সংখ্যক শ্রমিক। ইতিমধ্যেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সেখানে চলছে উদ্ধারকাজ। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করছেন পুলিশ-সেনা- দমকল। একাধিক অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মেশিন এনে চলছে উদ্ধারকাজ।

 

তার মধ্যেই সামনে এল একটি হৃদয়বিদারক ভিডিও। মানিক চাঁদ রাও নামের বিহারের এক বাসিন্দা তারাতলার ঘটনাস্থলে কাজ করছিলেন। তিনি বিহারের বাসিন্দা। ভাঙা ধ্বংস্তুপের মধ্যেই আটকা পড়ে গিয়েছিলেন তিনি। রক্তাক্ত অবস্থায় সেখান থেকেই তিনি ভিডিও করেছিলেন। ওই ভিডিওটি পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। যদিও পরবর্তীতে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। জানা গিয়েছে, বর্তমানে সুস্থ রয়েছেন তিনি।


 

 

এই ঘটনা নিয়ে শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।  পিএমও-র তরফে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘কলকাতায় ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনাটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এই দুর্ঘটননায় মৃতদের নিকটাত্মীয়দের প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিলল থেকে মাথাপিছু ২ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে।  আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। ক্ষতিগ্রস্তরা যাতে সব রকম সহায়তা পান তা নিশ্চিত করতে রাজ্য সরকার দিন রাত কাজ করে চলেছে।‘

 

যদিও এই ঘটনায় পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। এখনও পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুসারে ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৬ জন। পাশাপাশি আহতদের সংখ্যা ১৯। এদের মধ্যে বেশিরভাগের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আজ শনিবার পুলিশের পক্ষ থেকে এই বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। যদিও আগেই তারাতলায় ভেঙে পড়া গুদামের নকশায় ভুল ছিল বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অথচ নকশায় ভুল নেই এমনই জানিয়ে পুরসভা যে নথি প্রকাশ করেছিল তাতে সই ছিলল ফিরহাদ হাকিমের। নথির শেষে লেখা ছিল বহুতল তৈরির ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হচ্ছে না। অর্থাৎ গুদাম তৈরি করার ক্ষেত্রে ছাড়পত্র দিয়েছিল কলকাতা পুরসভা। আর বৃহস্পতিবার এই নথি দেখিয়েছিলেন রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী।   এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি শুরু হয়েছে তদন্ত। ঘটনার সঙ্গে যুক্ত বেশ কয়েকজনকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় ইতিমধ্যেই ১২ জন মৃতের নাম প্রকাশ পেয়েছে। তাঁরা হলেন কৃষ্ণা চৌধুরী (৪৯), রোহিত চৌধুরী (২০), চন্দ্রমা চৌধুরী (৬০), রাহুল চৌধুরী (১৭), পপ্পু কুমার রজক (৪০), ঘি কুমার (১৭), আসগর হুসেন (৫৪), সাহিল সর্দার (১৭), হাসান ইমাম (৪৪), গণেশ কালিন্দী (৪৫), নবীন সিং (৪৪) এবং স্বপন মন্ডল (৫৬)।