• facebook
  • twitter
Saturday, 11 April, 2026

মার্লিন গোষ্ঠীকে ঘিরে ইডির তদন্তে মোড়, দেখা হচ্ছে রাজনৈতিক যোগ

অভিযোগকারী মোহন চন্দ্র মণ্ডলকে তদন্তে সহায়তার জন্য আগামী ১৫ এপ্রিল ইডির সামনে হাজির হতে বলা হয়েছে।

কলকাতার অন্যতম রিয়েল এস্টেট সংস্থা মার্লিন গ্রুপকে ঘিরে চলা অর্থপাচার তদন্তে নতুন করে রাজনৈতিক যোগসূত্রের ইঙ্গিত মিলছে। তদন্তকারী সংস্থা ইডি মনে করছে, সংস্থার সঙ্গে রাজ্যের কিছু প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিত্বের সম্পর্ক থাকতে পারে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত এসএসসি কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত কিছু সন্দেহভাজনের সঙ্গেও সম্ভাব্য যোগাযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বুধবার কলকাতায় সাতটি স্থানে তল্লাশি চালিয়ে ইডি জানতে পারে, সংস্থাটির সঙ্গে রাজ্যের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা ও আমলার যোগাযোগ রয়েছে। এই সব ব্যক্তির আর্থিক লেনদেন এবং ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে, বিশেষত ভোটের মাত্র কয়েকদিন আগে এই তদন্তের গুরুত্ব বাড়ছে। রাজ্যে ২৩ ও ২৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণ নির্ধারিত রয়েছে।

Advertisement

ইডির নজরে রয়েছেন সংস্থার কর্ণধার সুশীল মোহতা, সাকেত মোহতা এবং তাঁদের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই গোষ্ঠী কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভলপমেন্ট অথরিটি-র সঙ্গে যৌথভাবে অ্যাক্রোপলিস মল এবং সেক্টর ফাইভে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের মতো প্রকল্পে কাজ করেছে।

Advertisement

তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্তরা ভুয়ো নথির ভিত্তিতে জমির মালিকানা দাবি করে বৃহৎ রিয়েল এস্টেট প্রকল্প গড়ে তুলেছে এবং সাধারণ মানুষকে বিনিয়োগে প্রলুব্ধ করেছে। জমি দখল ও অর্থপাচারের অভিযোগে সংস্থাটি ইতিমধ্যেই বিতর্কে জড়িয়েছে।

এর আগেও একাধিক অভিযোগে সংস্থার নাম জড়িয়েছে। আনন্দপুরে ‘মার্লিন নিয়াসা’ প্রকল্পে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ২০২৫ সালের আগস্টে কলকাতা হাইকোর্ট নিউ টাউনে একটি ২৬ তলা ভবন ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেয়, যেখানে জালিয়াতি ও আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। ‘মার্লিন আভানা’ প্রকল্প নিয়েও অবৈধ নির্মাণের অভিযোগে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে।

শহরের রিয়েল এস্টেট মহলের একাংশ জানাচ্ছে, সংস্থাটির বিরুদ্ধে বিতর্ক নতুন নয়। এক প্রবাসী ভারতীয় ব্যবসায়ীকে দীর্ঘ ১৬ বছরের আইনি লড়াইয়ের পর সুপ্রিম কোর্ট থেকে ন্যায় পেতে হয়েছিল। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে শীর্ষ আদালত মার্লিন প্রজেক্টস লিমিটেডের আবেদন খারিজ করে দেয়, যেখানে ব্যাঙ্ক ও সংস্থার যোগসাজশে সম্পত্তি দখলের অভিযোগ প্রমাণিত হয়।
সমগ্র ঘটনায় সংস্থার প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ ফের সামনে আসায় তদন্তের পরিধি আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

বিশেষ সংযোজন— এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর তরফে মার্লিন গ্রুপের চেয়ারম্যান সুশীল মোহতা, তাঁর পুত্র সাকেত মোহতা এবং মার্লিন গ্রুপের অন্যান্যদের বিরুদ্ধে তল্লাশি ও তদন্তের কাজ আজ তৃতীয় দিনেও অব্যাহত রয়েছে। জানা গিয়েছে, একাধিক নথি ও কাগজপত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগকারী মোহন চন্দ্র মণ্ডলকে তদন্তে সহায়তার জন্য আগামী ১৫ এপ্রিল ইডির সামনে হাজির হতে বলা হয়েছে।

এদিকে, দ্য স্টেটসম্যান গ্রুপের কাছে খবর রয়েছে যে, মণ্ডল তাঁর কলকাতার হাইকোর্টে দায়ের করা রিট পিটিশনে অভিযোগ করেছেন, গত দুই মাস ধরে কলকাতা পুলিশের কিছু কর্মকর্তা বিতর্কিত এই নির্মাতা ব্যবসায়ী সুশীল মোহতাকে রক্ষা করার জন্য প্রবল চেষ্টা চালিয়েছেন। ওই ব্যবসায়ীর সঙ্গে কলকাতার একাধিক প্রভাবশালী নেতা ও উচ্চপদস্থ আধিকারিকের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে জানা যায়।

তার রিট পিটিশনে, যেখানে তিনি ‘ম্যান্ডামাস’ নির্দেশের আবেদন করেছেন, মণ্ডল অভিযোগ করেন যে, মোহতা ও তাঁর সহযোগীরা জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে আনন্দপুরে তার ৩.৬৫ একর জমি হাতিয়ে নিয়েছেন। তিনি আরও জানান, কলকাতা পুলিশের অ্যান্টি-ফ্রড শাখার আধিকারিকরা তাঁকে মামলা প্রত্যাহার করার জন্য বারবার প্ররোচিত করার চেষ্টা করেছেন।

Advertisement