নতুন বছরের প্রথম দিনেই রাজ্যে এসআইআর আতঙ্কে আরও এক মৃত্যুর অভিযোগ। ঘটনা ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমার স্বরূপনগর থানা এলাকায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৬০ বছরের প্রৌঢ় সুলতান সর্দারের। পরিবারের অভিযোগ, এসআইআর সংক্রান্ত শুনানির পর থেকেই চরম মানসিক চাপ ও আতঙ্কে ভুগছিলেন ওই বৃদ্ধ। শুনানির চারদিন পরেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। শুনানি সংক্রান্ত মানসিক চাপই তাঁর মৃত্যুর কারণ বলে দাবি পরিজনদের।
ঘটনাটি ঘটেছে, বসিরহাটের স্বরূপনগর থানা এলাকার স্বরূপদা গ্রামে। ১ জানুয়ারি অর্থাৎ বৃহস্পতিবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ওই বৃদ্ধের। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সুলতান সর্দার দীর্ঘদিন ধরেই স্বরূপদা গ্রামের বাসিন্দা। স্ত্রী, সন্তান-পরিজন নিয়ে সেখানেই তাঁর সংসার। তবে সমস্যার সূত্রপাত ২০০২ সালের ভোটার তালিকা ঘিরে। ওই বছরের ভোটার তালিকায় সুলতানের নাম না থাকায় সাম্প্রতিক এসআইআর পর্বে তাঁকে শুনানির জন্য নোটিস পাঠানো হয়। গত ২৭ ডিসেম্বর স্বরূপনগর বিডিও অফিসে শুনানিতে হাজির হন তিনি।
পরিজনদের দাবি, শুনানিতে সুলতানকে জানানো হয় তাঁর পরিচয়পত্র ও অন্যান্য নথিতে গরমিল রয়েছে। অভিযোগ, সেই শুনানির পর থেকেই তিনি প্রবল দুশ্চিন্তায় ভুগতে শুরু করেন। পরিবারের সদস্যদের কথায়, নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কা, ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা এবং সম্ভাব্য প্রশাসনিক পদক্ষেপের ভয় তাঁকে মানসিকভাবে ভেঙে দেয়।
মৃত বৃদ্ধের স্ত্রী দিলওয়ারা বিবি জানান, ২০০২ সালে তাঁর স্বামী পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে ভিনরাজ্যে কাজ করতেন। সেই কারণেই ওই বছরের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম ওঠেনি। যদিও সুলতানের বাবা ও মায়ের নাম ওই তালিকায় রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। স্ত্রী দিলওয়ারার কথায়, ‘শুনানি থেকে ফিরে তিনি বারবার বলছিলেন, এই বয়সে সন্তান আর পরিবার ছেড়ে কোথায় যেতে হবে। সারাক্ষণ ভয় আর দুশ্চিন্তায় থাকতেন। ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে পড়ছিলেন।’ এছাড়াও পরিবারের দাবি, শুনানির পর থেকেই সুলতান ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করতে পারছিলেন না, ঘুমাতেনও না। মানসিক চাপে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। শেষমেশ বৃহস্পতিবার সকালে হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি। দ্রুত চিকিৎসার সুযোগ মেলেনি বলেই দাবি পরিবারের। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
সুলতানের ছেলে ওসমান সর্দার স্পষ্ট ভাষায় অভিযোগ করেন, ‘এসআইআর-এর আতঙ্কেই আমার বাবার মৃত্যু হয়েছে। আমরা গরিব মানুষ। কাগজপত্রের জন্য এত চাপ দেওয়া হলে মানুষ বাঁচবে কী করে? এই এসআইআর অবিলম্বে বন্ধ করা হোক। না হলে আমাদের মতো বহু পরিবার ধ্বংস হয়ে যাবে।’ এর পাশাপাশি বাবার মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে প্রশাসনকে অভিযোগ জানাবেন বলে দাবি সুলতান পুত্র ওসমানের।
হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রৌঢ়ের এই মৃত্যুর খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে প্রৌঢ়ের বাড়িতে গিয়ে সমবেদনা জানিয়েছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। সেই সঙ্গে এই মৃত্যুর জন্য নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপিকে নিশানা করেছে রাজ্যের শাসক দল। যদিও গেরুয়া শিবিরের তরফে অভিযোগ, মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি করা হচ্ছে।