অনেক কাজ করতে হবে, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মণ

রাজ্যের নতুন স্কুলশিক্ষা মন্ত্রী হিসেবে বিকাশ ভবনে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন দীপক বর্মন। দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম দিনই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি মানুষের হারিয়ে যাওয়া আস্থা ফিরিয়ে আনা তাঁর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। পাশাপাশি তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা সমস্যাগুলির সমাধান রাতারাতি সম্ভব নয়, তবে ধাপে ধাপে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটানো হবে।

দায়িত্ব গ্রহণের পর শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আজ প্রথম অফিসে এলাম। অনেক কাজ করতে হবে। কাজের যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে। আমি আশা করি, নিজের কাজের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে সন্তুষ্ট করতে পারব।’

শিক্ষা দফতরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন। তাঁর কথায়, ‘আমাকে যে দফতরটি দেওয়া হয়েছে, এর নিচে আর নামার জায়গা নেই। এখন যা হবে, তা উপরের দিকেই যাবে। আগের সরকার এই দফতরকে নিম্নমুখী অবস্থায় নিয়ে গিয়েছিল। তাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল মানুষের বিশ্বাস ফিরিয়ে আনা।’


দীপক বর্মনের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে শিক্ষা ও চাকরি ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা অনেকটাই নষ্ট হয়েছে। তিনি বলেন, ‘মানুষ বিশ্বাস করতে ভুলে গিয়েছে যে পড়াশোনা করে চাকরি পাওয়া যায়। শিক্ষকরা সততার সঙ্গে ছাত্রছাত্রীদের মানুষ করতে চান, সেই বিশ্বাসও অনেক ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ছাত্রছাত্রীরাও অনেক সময় মনে করছে না যে শিক্ষার মাধ্যমে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হওয়া সম্ভব। এই মানসিকতা বদলানোই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।’

তিনি আরও জানান, সরকার সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছে এবং সকলের সহযোগিতায় পরিস্থিতির পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে তিনি আশাবাদী।

স্কুলশিক্ষার উন্নয়নে প্রথমে কোন দিকে নজর দেওয়া হবে, সেই প্রশ্নের উত্তরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হয় শিক্ষক এবং ছাত্রছাত্রীদের আবার এক ছাতার তলায় নিয়ে আসতে হবে। শিক্ষা ব্যবস্থার মূল শক্তি এই সম্পর্ক। দু’পক্ষের মধ্যে বিশ্বাস, সম্মান এবং যোগাযোগ আরও দৃঢ় করতে হবে।’

স্কুলগুলির পরিকাঠামো, প্রশাসনিক সমস্যা এবং অন্যান্য অভিযোগ সম্পর্কেও তিনি বলেন, শিক্ষা দপ্তর সব বিষয় খতিয়ে দেখবে। প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে একদিনে সবকিছু বদলে ফেলার ক্ষমতা কারও নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘আজ সকালবেলা দপ্তরে এসেছি আর বিকেলের মধ্যে সব ঠিক হয়ে যাবে এমনটা ভাবার কোনও কারণ নেই। এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। সময় লাগবে, কিন্তু পরিবর্তন অবশ্যই আসবে।’

এসএসসি নিয়োগ সংক্রান্ত বিতর্ক ও মামলাগুলি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে দীপক বর্মন সতর্ক অবস্থান নেন। তিনি বলেন, ‘এই বিষয়গুলি নিয়ে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তাই কোনও নির্দিষ্ট মন্তব্য করতে চাই না। একটি শব্দও অনেক সময় নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। আইন তার নিজস্ব পথে চলবে।’

নতুন শিক্ষামন্ত্রীর এই বক্তব্যকে শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি আস্থা পুনর্গঠনের বার্তা হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক ও শিক্ষামহলের একাংশ।