রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার বিদায় নেওয়ার পর বর্ধমান পুরসভার সমস্ত কাউন্সিলররা কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে রয়েছেন বলে অভিযোগ। এর ফলে পুরসভার ৩৫টি ওয়ার্ডে নাগরিক পরিষেবা কার্যত বিপর্যস্ত বলে অভিযোগ উঠেছে। রাস্তাঘাট, পানীয় জল, নিকাশি সব কাজ থমকে রয়েছে। এই অবস্থায় রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী তথা বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র সাফ জানান, হয় কাজ করুন, নয় পদ ছাড়ুন। মন্ত্রীর কড়া বার্তার মাত্র দু’দিনের মধ্যেই বুধবার ইস্তফা দিলেন ৫ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর শেফালি বেগম। শেফালি বর্ধমান শহরের দাপুটে তৃণমূল নেতা ইফতিকার আহমেদের স্ত্রী। স্বাভাবিকভাবেই এই ইস্তফা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তৃণমূল কাউন্সিলর কেন পদত্যাগ করলেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে শেফালি জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত কারণেই তাঁর ইস্তফার সিদ্ধান্ত।
এর আগে পদত্যাগ করেছিলেন ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পামেলা চট্টোপাধ্যায়। ফলে বর্ধমান পুরসভার তৃণমূল পরিচালিত বোর্ডে অস্বস্তি আরও বাড়ল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
মন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্রর দাবি, বর্তমানে প্রশাসনিক আধিকারিকদের দিয়েই পুরসভার অধিকাংশ কাজ সামলাতে হচ্ছে। তাঁর কথায়, ‘যখন দায়িত্ব পালন করছেন না, তখন পদে থেকে লাভ কী? পদত্যাগ করলে অন্তত মানুষের দুর্ভোগ কমানোর পথ সুগম হবে।’ মন্ত্রীর এই কড়া অবস্থানের পর একের পর এক কাউন্সিলরের পদত্যাগে শহরের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। বর্ধমান পুরসভার বাসিন্দাদের একাংশও পরিষেবা স্বাভাবিক করতে মন্ত্রীর অবস্থানকেই সমর্থন জানিয়েছেন। রাজ্যে পালাবদলের পরে বিজেপির তরফে স্পষ্ট করা হয়েছিল কোনোরকম দুর্নীতিকে বরদাস্ত করা হবে না। পাশাপাশি সাধারণের অসুবিধা হবে এমন কোনো কাজ করা যাবে না। সেই কারণেই মনে করা হচ্ছে হয়তো বাধ্য হয়েই হয়তো তিনি পদত্যাগ করেছেন।