ময়না থানার অন্তর্গত পূর্ব-দক্ষিণ ময়না গ্রামের পান বরজের মধ্যে এক মহিলার হাত মুখ বাঁধা নগ্ন দেহ উদ্ধার হয়েছে। বুধবার সকালে এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসায় আলোড়ন পড়ে গিয়েছে পূর্ব মেদিনীপুরের এই গ্রামে। কারণ স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ তুলেছেন, মহিলাকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। যেহেতু মহিলার শরীরে আঘাতের চিহ্ন আছে এবং নগ্ন করে হাত-মুখ বাঁধা ছিল তাতেই এই অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। তার উপর পানের বরজে ওই মহিলার নগ্ন দেহ মেলায় তাঁকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে গ্রামে চাউর হয়ে গিয়েছে।
বুধবার সকালে ময়না থানার অন্তর্গত পূর্ব-দক্ষিণ ময়না গ্রামের পান বরজের মধ্যে ওই মহিলার হাত মুখ বাঁধা নগ্ন দেহ উদ্ধার হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত মহিলার নাম রাধারানী অধিকারী (৪৭)। পূর্ব-দক্ষিণ ময়না গ্রামেই ওই মহিলার বাড়ি। তাঁর মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। স্বামী অরূপ অধিকারী কর্মসূত্রে মহারাষ্ট্রে থাকেন। তাঁদের একমাত্র ছেলে সৌমেন অধিকারী মাধ্যমিক পরীক্ষায় নবম স্থান দখল করেছিলেন। সুতরাং গ্রামে সকলেই তাঁদের চেনেন। ছেলেটি এখন আসাম রাজ্যের গুয়াহাটি আইআইটিতে পড়াশোনা করে সেখানের একটি কলেজে অধ্যাপনা করেন। বুধবার সকালে তাঁদের খবর দেওয়া হলে বাবা-ছেলে দু’জনেই বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে খবর, মহিলা বাড়িতে একা থাকার সুযোগ নিয়ে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। প্রমাণ লোপাট করতেই মাথায় আঘাত করে খুন করা হয়েছে। পান বরজে সকালে গেলে সেখানে এমন ঘটনা ঘটলে চিৎকার শোনার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু রাতের অন্ধকারে তাঁকে তুলে নিয়ে গিয়ে হাত-মুখ বেঁধে ধর্ষণ করার জেরেই কোনও আওয়াজ বাইরে আসেনি। এটা কারও একার কাজ নয়। সুতরাং গণধর্ষণ হয়ে থাকতে পারেন রাধারানী অধিকারী বলে মনে করা হচ্ছে। এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করা হয়েছে।
তাছাড়া বুধবার সকালে পূর্ব-দক্ষিণ ময়না গ্রামের বাসিন্দা অরূপ জানার পান বরজের ভিতর ওই দেহ উদ্ধার হয়। অরূপবাবুর স্ত্রী শিলা জানা প্রত্যেকদিনের মতো এদিনও সকালে পানের বরজে যান। সেখানে প্রতিবেশী রাধারানী অধিকারীর নগ্ন দেহ দেখে তিনি ভয় পেয়ে যান। আর বাড়িতে গিয়ে স্বামী এবং গ্রামের অন্যান্যদের বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে ময়না থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য তমলুক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই বিষয়ে প্রতিবেশী রাজু অধিকারী বলেন, ‘রাধারানীদেবীর মানসিক অসুখ ছিল। বাড়িতে শ্বশুর, শাশুড়ি, দেওর, জা সকলেই আছেন। তাঁরাই রাধারানীদেবীকে খেতে দিতেন। তবে কেমন করে এই ঘটনা ঘটল সেটা বুঝতে পারছি না। কেউ বা কারা পাশবিক অত্যাচার করে খুন করেছে বলে অনুমান। আমরা চাই পুলিশ নিরপেক্ষ তদন্ত করুক।’