কালীপুজো ও বিশ্বখ্যাত শান্তিপুরের রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা, ভিড় ব্যবস্থাপনা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সুনিশ্চিত করতে শান্তিপুরে একটি উচ্চপর্যায়ের পরিদর্শন ও প্রশাসনিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হল।
রবিবার শান্তিপুরের ঐতিহ্যবাহী ‘বামা কালীর নাচ’-এর এলাকা এবং সার্বিক পুলিশি প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে এলাকায় পৌঁছন রানাঘাট পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার আশিস মৌর্য। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন শান্তিপুর থানার আইসি সিদ্ধার্থ মণ্ডল, শান্তিপুরের বিধায়ক স্বপন কুমার দাস-সহ একাধিক উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক আধিকারিকরা।
পরিদর্শন শেষে পুলিশ সুপার আশিস মৌর্য জানান, দুর্গাপুজোর মতোই কালীপুজো ও রাস উৎসবও অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসন প্রস্তুত। তিনি উল্লেখ করেন, শান্তিপুরের বেইজপাড়া মাঠে বিখ্যাত বামা কালীর নাচ দেখতে এবং অন্যান্য কালীপুজো উপলক্ষে প্রতিবছরই বিপুল জনসমাগম হয়। সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রেন্ড অনুযায়ী এবারও ভিড় অতীতের সমস্ত রেকর্ড ভাঙতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
সেই বিষয়টি মাথায় রেখে শোভাযাত্রার পর বেইজপাড়া মাঠেই বামা কালী নাচ আয়োজনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভিড় সামলাতে নির্দিষ্ট কিছু পথ কেবল জরুরি পরিষেবার জন্য খোলা থাকবে। সাধারণ দর্শনার্থীদের চলাচলের জন্য আলাদা রাস্তা চিহ্নিত করা হয়েছে।
প্রবেশপথে কিছুটা চাপ সৃষ্টি হলেও তা সামাল দিতে এবং এলাকার আশপাশের মাঠগুলিকে কাজে লাগিয়ে পার্কিংয়ের সুব্যবস্থা করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী শান্তিপুরে আসতে পারেন। এমন সম্ভাবনা মাথায় রেখে প্রশাসনিক গাইডলাইন অনুযায়ী আগাম অতিরিক্ত সুরক্ষাব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।
পুলিশ সুপার সাধারণ মানুষকে সরকারি নিয়ম মেনে আনন্দ উদ্যাপনের বিনীত আবেদন জানিয়েছেন। শান্তিপুরের বিধায়ক স্বপন কুমার দাস জানান, শান্তিপুরের ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসব, কৃষ্ণনগর ও সূত্রেরগড়ের জগদ্ধাত্রী পুজো এবং চন্দননগরের পুজো সংস্কৃতিকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে রাজ্য সরকার ও প্রশাসন বদ্ধপরিকর।
আরও পড়ুন: অর্ণবের পরে ফের ঘূর্ণিঝড়ের ভ্রুকুটি, ধেয়ে আসছে ‘মুরাসু’, কলকাতায় প্রভাব পড়বে?
স্বপন কুমার দাস বলেন, ‘জেলা প্রশাসন, সকল সরকারি দপ্তর এবং পুলিশের যৌথ প্রচেষ্টায় এবারের রাস উৎসব আরও সুশৃঙ্খল, জমজমাট ও বর্ণাঢ্য হয়ে উঠবে।’