জ্যোতি বসুর স্মৃতিতে গণতন্ত্র রক্ষার ডাক, উদ্বোধন হল আর্কাইভ ও মিউজিয়ামের প্রথম পর্ব

Photo: Statesman

প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বাম আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ জ্যোতি বসুর ১১৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার নিউ টাউনে জ্যোতি বসু সমাজচর্চা ও গবেষণা কেন্দ্রের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হল স্মরণসভা। সেখানে জ্যোতি বসুকে ঘিরে গড়ে ওঠা আর্কাইভ ও মিউজিয়ামের প্রথম পর্বের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হল। অনুষ্ঠানে বক্তারা জ্যোতি বসুর রাজনৈতিক জীবন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থান এবং মানুষের অধিকার রক্ষার লড়াইকে বর্তমান সময়ে আরও প্রাসঙ্গিক বলে তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানের সূচনায় আর্কাইভ ও মিউজিয়ামের প্রথম পর্বের উদ্বোধন করেন প্রাবন্ধিক ও চিন্তাবিদ অধ্যাপক শমীক বন্দ্যোপাধ্যায়। মিউজিয়ামে জ্যোতি বসুর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের নানা বিরল আলোকচিত্র, ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সামগ্রী, দলিল-দস্তাবেজ, ভাষণের নথি এবং বাম আন্দোলনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উদ্যোক্তাদের দাবি, আগামী দিনে গবেষক, ছাত্রছাত্রী ও সাধারণ মানুষের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যভাণ্ডার হয়ে উঠবে।

পরে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম, প্রবীণ বাম নেতা সূর্যকান্ত মিশ্র, অধ্যাপিকা সঞ্চিতা সান্যাল এবং সভাপতি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিমান বসু। তাঁদের বক্তব্যে বারবার উঠে আসে জ্যোতি বসুর রাজনৈতিক দর্শন, গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার সংগ্রাম এবং সমাজে ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের প্রয়োজনীয়তা।


Photo: Statesman

বিমান বসু বলেন, ‘জ্যোতি বসুর জীবন ও কর্ম আজও মানুষের কাছে প্রাসঙ্গিক। তাঁর আদর্শ, সততা এবং গণতান্ত্রিক চেতনা নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতেই এই আর্কাইভ ও মিউজিয়াম গড়ে তোলা হয়েছে।’ ইতিহাসকে সংরক্ষণ করেই আগামী দিনের সমাজ গঠনের পথ আরও সুদৃঢ় হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সূর্যকান্ত মিশ্র বলেন, ‘জ্যোতি বসুর রাজনীতি ছিল মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার রাজনীতি। ভূমি সংস্কার, পঞ্চায়েত ব্যবস্থা, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং ধর্মনিরপেক্ষতার প্রশ্নে তাঁর ভূমিকা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।’ নতুন প্রজন্মের কাছে সেই ইতিহাস ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকার পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

Photo: File Photo

মহম্মদ সেলিম বলেন, ‘জ্যোতি বসুকে স্মরণ করার অর্থ শুধু তাঁর রাজনৈতিক জীবনকে মনে রাখা নয় বরং গণতান্ত্রিক অধিকার প্রসারের সংগ্রামকে আরও শক্তিশালী করা।’ নয়া ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শুধু হকারদের প্রশ্ন নয়, সমাজজীবনের প্রতিটি অন্যায় ও বঞ্চনার বিরুদ্ধেই প্রতিবাদ গড়ে তুলতে হবে।’ জ্যোতি বসুর রাজনৈতিক জীবন, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থান এবং মানুষের অধিকার রক্ষার লড়াই বর্তমান সময়েও পথ দেখায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আয়োজকদের বক্তব্য, এটি শুধুমাত্র একটি স্মারক নয় বরং জ্যোতি বসুর রাজনৈতিক জীবন, বামপন্থী আন্দোলনের ইতিহাস এবং বাংলার সামাজিক-রাজনৈতিক বিবর্তনের দলিল সংরক্ষণের একটি দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ। আগামী দিনে ধাপে ধাপে আরও নথি, ছবি ও ঐতিহাসিক উপকরণ এই আর্কাইভে সংযোজিত হবে।