সাধুর বেশে চায়ের দোকানে আশ্রয়, কোচবিহার থেকে পুলিশের জালে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী

Bangladesh Citizen Arrested Photo-SNS

কপালে সিঁদুরের টিপ দিয়ে সাধুর পোশাক পরে সবার চোখে ধুলো দিচ্ছিলেন। চায়ের দোকানে বসে চা পান করছিলেন। কেউ তাঁকে সন্দেহও করেনি। তবে অপরিচিত মুখ দেখে অনেকেরই নানা প্রশ্ন জেগেছিল। তখন শুরু হয় কথাবার্তা। কিন্তু তাতে বেশ অসঙ্গতি লক্ষ্য করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আর তারপরই থানায় খবর যায়। তখনই ওই ‘সাধুর’ আসল তথ্য সামনে চলে আসে। সাধুর ছদ্মবেশ ধরে ভারতে প্রবেশ করেছিল বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী বলে অভিযোগ। ভানুকুমারী থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তাঁকে। পরনে রক্তবর্ণের ফতুয়া, ধুতিকে ঢাল করে দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন ওই সাধু। আর তাই তাঁকে কেউ সন্দেহ করছিল না।

সাধুর বেশ ধরে দেশের নানা প্রান্তে ঘুরে বেড়াত বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী। অবশেষে কোচবিহারের তুফানগঞ্জ-২ ব্লকের ভানুকুমারীতে স্থানীয় বাসিন্দাদের তৎপরতায় ধরা পড়ে গেলেন পুলিশের জালে। কোচবিহারের তুফানগঞ্জ এলাকায় রবিবার এটাই ছিল চর্চার বিষয়। পুলিশ সূত্রে খবর, তুফানগঞ্জ-২ ব্লকের ভানুকুমারী এলাকায় ওই ৫০ বছর বয়সের ব্যক্তিকে ঘুরতে দেখা গিয়েছিল। পরনে সাধুর পোশাক বলে প্রথমে খুব একটা সন্দেহ করেননি স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে তিনি এলাকায় নতুন এবং অপরিচিত মুখ সেটা লক্ষ্য করেছিলেন অনেকেই। স্থানীয় একটি চায়ের দোকানে বসে ওই ব্যক্তি চায়ে চুমুক দিচ্ছিলেন। তখন স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁর পরিচয়, কোথা থেকে এসেছেন প্রশ্ন করতে থাকেন। সেসব বিষয় জিজ্ঞাসা করলে ওই ব্যক্তি নানারকম উত্তর দিতে থাকেন। কথার এই অসঙ্গতি সন্দেহ বাড়িয়ে দেয় এলাকার বাসিন্দাদের।

এদিন তাঁকে বক্সিরহাট থানার পুলিশের হাতে তুলে দেয় স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁর ভারতে প্রবেশ এবং এতদিন ধরে এই দেশে থাকার নেপথ্যে অন্য কোনও উদ্দেশ্য ছিল কিনা সেটা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। বিষয়টি ঘিরে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে খবর, ভানুকুমারীর ভোলানাথ মোড়ের একটি চায়ের দোকানে সাধুর বেশে একা বসেছিলেন ওই ব্যক্তি। কপালে সিঁদুরের ফোঁটা, পরনে সাধুর পোশাক। চায়ে চুমুক দিয়ে নিজের মনে বসেছিলেন তিনি। কথাবার্তায় বিস্তর অসঙ্গতি ধরা পড়ায় সন্দেহ জোরালো হয়। তখন তাঁকে আটক করে বক্সিরহাট থানায় খবর দেওয়া হয়। আর পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয় তাঁকে।


তাছাড়া পুলিশ জেরা করতেই বেরিয়ে আসে তিনি বাংলাদেশি নাগরিক। ওই ব্যক্তির কাছ থেকে ভারতে থাকার কোনও বৈধ কাগজপত্রও মেলেনি। ওই ব্যক্তি সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ করেছিলেন। অবৈধ পথে এপারে এসেছিলেন। কী কারণে এদেশে অনুপ্রবেশ করেছিলেন? সাধুর বেশে কেন ঘুরছিলেন? কোনও বিশেষ উদ্দেশ্য ছিল? উত্তর খুঁজছে পুলিশ।