জলপাইগুড়ির বেকারিতে ম্যানেজারকে খুন করল দুষ্কৃতীরা, হাড়হিম কাণ্ডের তদন্তে পুলিশ

Bakery Manager Murder Photo-Representative

বেকারিতে ঢুকে সেখানকার ম্যানেজারকে খুন করল দুষ্কৃতীরা বলে অভিযোগ। সকালে এই হাড়হিম ঘটনা প্রকাশ্যে আসায় আলোড়ন পড়ে গিয়েছে জলপাইগুড়িতে। রক্তে ভেসে যায় বেকারির মাটি। সেই অবস্থায় দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই খুনের ঘটনা ঘটলেও স্থানীয় বাসিন্দারা কেউ টের পাননি বলেই জানা গিয়েছে। একদম সকালে যখন নিরিবিলি পরিবেশ ছিল সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এই হাড়হিম হত্যাকাণ্ড সংগঠিত করা হয়েছে। কে বা কারা খুন করল বেকারির ম্যানেজারকে সেটা এখনও জানা যায়নি। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় আতঙ্কের বাতাবরণ তৈরি হয়েছে।

হাড়হিম এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে পূর্ব পরিকল্পনা ছিল বলে মনে করছে পুলিশ। জলপাইগুড়ির এই বেকারি স্থানীয় মানুষজনের কাছে অত্যন্ত পরিচিত। এমনকী ম্যানেজারের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের ভালরকম যোগাযোগ গড়ে উঠেছিল। সেখানে বেকারিতে ঢুকে ম্যানেজারকে খুন করার ঘটনা মেনে নিতে পারছেন না তাঁরা। আগে কখনও এমন ঘটনা ঘটেনি। সেখানে শুক্রবার সকালে বেকারি থেকে উদ্ধার হয়েছে ম্যানেজারের রক্তাক্ত দেহ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বাভাবিকভাবেই চর্চা শুরু হয়েছে সাধারণ মানুষজনের মধ্যে। ইতিমধ্যেই ম্যানেজারের দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়ে দিয়েছে পুলিশ। নেপথ্যে কে বা কারা রয়েছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এই খুনের নেপথ্যে লুটের ছক নাকি অন্য কিছু ছিল সেটাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে খবর,  হুগলির পুরশুড়া থানা এলাকার বাসিন্দা হাফিজুর রহমান এই বেকারি চালাতেন। জলপাইগুড়িতে থেকে কাজ করতেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে কর্মসূত্রে জলপাইগুড়িতে থাকতেন ওই ম্যানেজার হাফিজুর। নয়াবস্তি এলাকার প্যারিস বেকারিতে ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতেন তিনি। রোজকার মতোই বৃহস্পতিবার রাতে বেকারিতেই ছিলেন হাফিজুর রহমান। শুক্রবার সকালে বেকারিতে রক্তাক্ত অবস্থায় মেলে তাঁর দেহ। স্থানীয়রা এই ঘটনা দেখে খবর দেয় কোতোয়ালি থানায়। ইতিমধ্যেই পুলিশ গিয়ে দেহ উদ্ধার করে তদন্ত শুরু করেছে। খবর দেওয়া হয়েছে মৃতের বাড়িতেও।


তাছাড়া টাকা-পয়সা লুটের উদ্দেশে বেকারিতে হানা দিয়েছিল কয়েকজন। এমনটা মনে করা হলেও এখানে থাকা টাকা-পয়সা লুট হয়েছে বলে পুলিশ তেমন তথ্য পায়নি। কেউ বা কারা তাহলে কেন খুন করল? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ। কোনও অপরাধে বাধা দেন ম্যানেজার হাফিজুর রহমান। তাই তাঁকে খুন করা হয় বলে মনে করছে পুলিশ। তবে ঠিক কী ঘটেছিল সেটা জানতে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এই খুনের নেপথ্যে ব্যক্তিগত শত্রুতাও থাকতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ।