বিস্ফোরণের পর পাইকপাড়া ক্লাব থেকে ৬টি বোমা উদ্ধার

শনিবার ভোরে বিস্ফোরণের তীব্র শব্দে কেঁপে ওঠে উত্তর কলকাতার পাইকপাড়ার গাঙ্গুলিপাড়া এলাকা। একটি পরিত্যক্ত ক্লাবঘরে পরপর বিস্ফোরণের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। সামনে বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শহরের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে কলকাতা পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরু গলির মধ্যে কয়েক ছটাক জমির উপর অবস্থিত ‘যুবশক্তি’ নামে ছোট্ট একটি ক্লাবঘরেই এই বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে ক্লাবঘরের টিনের ছাউনি উড়ে পাশের একটি ছয়তলা বাড়ির ছাদে গিয়ে পড়ে। আশপাশের কয়েকটি বাড়ির জানলার কাচ ভেঙে যায়। বিস্ফোরণের পর ক্লাবঘরে আগুনও লেগে যায়। পরে দমকল এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঘটনার পর এলাকায় পৌঁছে বম্ব স্কোয়াড তল্লাশি চালায়। সেখানে থেকে আরও ছ’টি বোমা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে, যার মধ্যে তিনটি ইতিমধ্যেই ফেটে গিয়েছিল। পাশাপাশি দুটি বোতলে সন্দেহজনক তরল পদার্থও মিলেছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।


ক্লাবের প্রেসিডেন্ট শ্রাবণী বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ঘটনার সময় ভোরে হঠাৎ প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। বাইরে বেরিয়ে তাঁরা দেখেন ক্লাবঘর থেকে ধোঁয়া ও আগুন বেরোচ্ছে। এরপরই থানায় খবর দেওয়া হয়। তিনি জানান, নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁরা লিখিত অভিযোগ দায়ের করবেন এবং দুষ্কৃতীদের শাস্তির দাবি জানাবেন।

শ্রাবণীর অভিযোগ, ক্লাবঘরের পিছনের দুর্বল দেওয়াল ভেঙে কেউ ভিতরে ঢুকে বোমা রেখে গিয়েছিল। তাঁর দাবি, ক্লাবের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে এবং প্রোমোটিংয়ের জন্য চাপও দেওয়া হচ্ছিল। অতীতেও ক্লাবে চুরি ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি জানান।

ঘটনার নেপথ্যে জমি সংক্রান্ত বিরোধ নাকি অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজও সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের দিকে আঙুল তুলতে চাননি স্থানীয় বাসিন্দারা। শান্ত এলাকায় এমন ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি বলেই তাঁদের দাবি। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।