বিধানসভায় তৃণমূলের বিক্ষোভে অনুপস্থিত ৫০ বিধায়ক

প্রতীকী চিত্র

রাজ্যে সরকার বদলের পর প্রথমবার বিধানসভা চত্বরে বড় রাজনৈতিক কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যজুড়ে তৃণমূল কর্মীদের উপর হামলা, রান্নার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি এবং হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদে বুধবার আম্বেদকর মূর্তির পাদদেশে অবস্থান বিক্ষোভে সামিল হন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম ও কুণাল ঘোষ-সহ দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। কিন্তু সেই কর্মসূচিতেই সামনে আসে দলের অন্দরমহলের অস্বস্তিকর ছবি।

ছাব্বিশের নির্বাচনে পরাজয়ের পর তৃণমূলের বিধায়ক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮০। অথচ এদিনের বিক্ষোভ শুরুর সময় উপস্থিত ছিলেন মাত্র ৩১ জন বিধায়ক। পরে আরও তিনজন যোগ দিলেও সংখ্যাটা ৩৪-এর বেশি হয়নি। প্রধান বিরোধী দলের এই গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অর্ধেকেরও বেশি বিধায়কের অনুপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা তৈরি করেছে।

আরও তাৎপর্যপূর্ণ, কর্মসূচিতে ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জিন্দাবাদ’ এবং ‘তৃণমূল জিন্দাবাদ’ স্লোগান উঠলেও একবারের জন্যও শোনা যায়নি ‘অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জিন্দাবাদ’। সাম্প্রতিক সময়ে দলে অভিষেকের ভূমিকা নিয়ে যে চাপানউতোর চলছে, এই ঘটনা তারই ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।


বিধায়কদের অনুপস্থিতি নিয়ে মুখ খুলে কুণাল ঘোষ দাবি করেছেন, রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় ভোট-পরবর্তী সন্ত্রাসের জেরে বহু নেতা নিজেদের এলাকায় ব্যস্ত রয়েছেন। তাঁর কথায়, দলের কর্মীদের পাশে দাঁড়ানো এবং তথ্য অনুসন্ধান কমিটির পরিদর্শনের কারণেই অনেক বিধায়ক কলকাতায় পৌঁছতে পারেননি।

তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, বিষয়টি শুধুই সাংগঠনিক ব্যস্ততার নয়। সরকার বদলের পর তোলাবাজি, সিন্ডিকেট রাজ, হুমকি ও ডাকাতির ছক তৈরির মতো অভিযোগে তৃণমূলের একাধিক প্রথম সারির নেতা গ্রেপ্তার হয়েছেন। গত কয়েক দিনে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানে চাপে পড়েছে ঘাসফুল শিবির।

ইতিমধ্যেই বিধাননগরের কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তী আটক হয়েছেন। অন্যদিকে, সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপ এড়াতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন ক্যানিং পশ্চিমের পরেশরাম দাস ও বালির কৈলাশ মিশ্র। ফলে দলের একাংশ প্রকাশ্যে সক্রিয়তা কমিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে মত রাজনৈতিক মহলের।