রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে তৃণমূল কংগ্রেসে বড়সড় ভাঙনের ইঙ্গিত দিলেন বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। সাংসদের দাবি, তৃণমূলের একাধিক বিধায়ক ও সাংসদ বর্তমানে দলের প্রতি অসন্তুষ্ট । তাঁরাই বিজেপিতে যোগদানের অপেক্ষায় রয়েছেন। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অনুমতি মিললেই দলবদলের প্রক্রিয়া শুরু হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বুধবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সৌমিত্র খাঁ বলেন, তৃণমূলের প্রায় ৫০ জন বিধায়ক এবং ২০ জন সাংসদ বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তাঁর কথায়, ‘দলের ভিতরে প্রবল ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। সুযোগ পেলেই অনেকে বেরিয়ে আসবেন।’ এমনকি, বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব সবুজ সংকেত দিলে তৃণমূল কংগ্রেসের অস্তিত্বই সংকটে পড়বে বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন বিজেপি সাংসদ। অতীতে বিজেপি কর্মীদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, অন্যায় করলে তার ফল ভোগ করতেই হবে।যদিও এই সমস্ত দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায় বলেন, বিজেপি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে। তৃণমূলের কেউ দল ছাড়ছেন না বলেও দাবি তাঁর।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে শাসকদলের অন্দরে একাধিক ঘটনায় রাজনৈতিক জল্পনা বেড়েছে। বারাসতের সাংসদ কাকলী ঘোষ দস্তিদার দলের বিভিন্ন পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। পাশাপাশি প্রশাসনিক বৈঠকে তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিও রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন তুলছে। রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভায় কাউন্সিলর ও পুরপ্রধানদের পদত্যাগ এবং দুর্নীতির অভিযোগে চাপের মধ্যেই সৌমিত্র খাঁর এই মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিল।