দার্জিলিঙে ৫০ কোম্পানি আধাসেনা, ‘দুর্গম কেন্দ্রে’ দু’দিন আগে যাবেন ভোটকর্মীরা

নির্বাচনের আগে দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলায় ভোট সংক্রান্ত নিরাপত্তা ও প্রস্তুতি জোরদার করা হচ্ছে। দার্জিলিং জেলায় ১১ লক্ষ ৪৮ হাজার ২০৯ জন ভোটার এবং ১৪৬৫টি বুথসহ ৫২টি সহায়ক ভোটকেন্দ্র রয়েছে। কালিম্পং জেলায় ভোটার সংখ্যা ২ লক্ষ ১ হাজার ৯৩১ জন এবং বুথ ২৯৩টি। নির্বাচনের জন্য সেনা ও আধাসেনা মোতায়েন করা হয়েছে—দার্জিলিংয়ে ৫০ কোম্পানি আধাসেনা ইতিমধ্যে পৌঁছেছে, আরও সাত থেকে আট কোম্পানি পৌঁছনোর কথা। কালিম্পঙে সাত কোম্পানি আধাসেনা পৌঁছেছে, আরও তিন কোম্পানি আসবে।

জেলা প্রশাসন ‘স্পর্শকাতর’, ‘শ্যাডো জোন’ ও ‘ক্রিটিক্যাল বুথ’-গুলিতে বিশেষ নজর দিচ্ছে। দার্জিলিংয়ে ১৯৩টি ক্রিটিক্যাল বুথে অতীতে ভোটের অংশগ্রহণ ১৫% কমেছিল, তাই ভোটারদের আকর্ষণ বাড়াতে প্রচারে জোর দেওয়া হচ্ছে। শ্রীখোলা বুথের মতো দুর্গম স্থানে ভোট পরিচালনার জন্য ভোটকর্মীরা বুথের দু’দিন আগে রওনা দেবেন। পাহাড়ি এলাকায় মোবাইল ও ইন্টারনেট নেটওয়ার্কের সমস্যা থাকায় স্যাটেলাইট ফোন, আরটিএস সেট ও ভিডিও রেকর্ডিং ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মহিলা পরিচালিত বুথ বা ‘পিঙ্ক বুথ’ দার্জিলিংয়ে ৩৬টি এবং কালিম্পংয়ে চারটি থাকবে, যা আগের নির্বাচনের মতো অপরিবর্তিত। নাকাতল্লাশি, কুইক রেসপন্স টিম ও মোবাইল টহলদারি চালু করা হয়েছে। সরকারি ব্যানার ও পোস্টার সরানোর কাজ বুধবারের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ রয়েছে।


নির্বাচন কমিশন ও জেলা প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে সেনা, আধাসেনা, দমকল, বনদপ্তর, আয়কর বিভাগসহ বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করছে। আন্তর্জাতিক সীমান্ত, সীমানাপ্রান্ত অঞ্চল ও সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলিতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। দার্জিলিং জেলা সংলগ্ন ইন্দো-নেপাল, ইন্দো-বাংলাদেশের মতো আন্তর্জাতিক সীমান্ত, পশ্চিমবঙ্গ-বিহার, পশ্চিমবঙ্গ-সিকিম সীমান্তে ইতিমধ্যে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বুধবার বিকেলেই জেলায় পৌঁছে যাচ্ছেন পুলিশ অবজার্ভার এবং ‘এক্সপেন্ডিচার অবজার্ভার’। বৃহস্পতিবার জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের সঙ্গে তাঁদের বৈঠক রয়েছে বলে খবর। জেলার বিভিন্ন জায়গায় সরকারি প্রকল্পের ব্যানার, পোস্টার সরানোর কাজ বুধবারের মধ্যে শেষ করা হবে।

জেলাশাসক সুনীল আগরওয়াল ও কুহুক ভূষণ বলেছেন, ভোট কেন্দ্রে চারজন ভোটকর্মী, সেনা মোতায়েন ও ওয়েবকাস্টিং নিশ্চিত করা হবে। ভোটের দিন কেউ ৫০ হাজার টাকার বেশি নগদ বহন করতে পারবেন না। নির্বাচনী প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করতে নেটওয়ার্ক অপারেটরদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এর ফলে দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলায় শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু ভোটাধিকার নিশ্চিত করার জন্য সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এইভাবে নির্বাচন কমিশন পাহাড়ি জেলা ও সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সমন্বিত ও সুরক্ষিত নির্বাচন পরিচালনার দিকে নজর দিচ্ছে।