প্রথম দফার ভোটে রাজ্যের দুই জেলা থেকে উঠে এল সংঘর্ষের ছবি। একদিকে কুমারগঞ্জে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু সরকারের উপর হামলার ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ, আর অন্যদিকে কোচবিহারে বিজেপি কর্মীর ওপর ছুরির কোপ দিয়ে হামলা চালানোর অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জে ২৪ নম্বর বুথ এলাকায় বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু সরকারকে পুলিশের সামনেই মারধরের অভিযোগ ওঠে। বুথ পরিদর্শনে গেলে একদল দুষ্কৃতী তাঁকে ঘিরে ধরে কিল-চড়-ঘুষি মারে এবং তাঁর গাড়িতেও ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ। ঘটনাটি ক্যামেরাবন্দি হয়ে প্রকাশ্যে আসতেই কড়া অবস্থান নেয় নির্বাচন কমিশন। ভিডিও ফুটেজ দেখে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়।
কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে কোনওরকম আপস করা হবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে কমিশন। এলাকায় কুইক রেসপন্স টিম ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। যদিও তৃণমূল কংগ্রেস এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, বিজেপি প্রার্থী নিজেই বুথের সামনে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছিলেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
অন্যদিকে, ভোটের শেষলগ্নে কোচবিহারের সিতাই বিধানসভায় ২৭০ নম্বর বুথে বিজেপি কর্মী জাহানুর ইসলামকে ছুরির কোপ মারার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হয়। বিজেপির দাবি, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই এই হামলার সঙ্গে জড়িত। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছে শাসকদল।
একইসঙ্গে শিলিগুড়িতে বিজেপি প্রার্থী শংকর ঘোষ বুথের ১০০ মিটারের মধ্যে পুলিশের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে বচসায় জড়ান। অন্যদিকে পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতনে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে ভোটারদের প্রভাবিত করা ও হামলার অভিযোগ তুলেছে। তবে বিক্ষিপ্ত অশান্তির মধ্যেও ভোটারদের উৎসাহে ভাটা পড়েনি।
Advertisement