গার্লস কলেজের হস্টেলের খাবারে কি মাদক? অন্তত ৪৪ জন ছাত্রী মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি

Girls Students Hospitalised Photo-ANI

দুর্গাপুজোর প্রাক্কালে সামনে এল ভয়াবহ কাণ্ড। গার্লস কলেজের হস্টেলের খাবার খেয়ে অন্তত ৪৪ জন ছাত্রী এখন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। হস্টেলের খাবারে কি মাদক ছিল? এমন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কারণ ওই খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে অন্তত ৪৪ জন ছাত্রী মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হয়েছেন। বহরমপুরের টেক্সটাইল কলেজ মোড় সংলগ্ন কেন্দ্রীয় তপশিল গার্লস হস্টেলে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। এই খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে হাজির হয় স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। গোটা ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ছাত্রীদের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত রাঁধুনিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ।

কিন্তু এত কিছু থাকতে মাদকের অভিযোগ উঠছে কেন? মাদক মেশানো হবে কেন? এইসব প্রশ্ন এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। কেন্দ্রীয় তপশিল গার্লস হস্টেলে বহু ছাত্রী থেকে পড়াশোনা করেন। শনিবার রাতের খাবার খাওয়ার পর থেকে একের পর এক ছাত্রী অসুস্থবোধ করতে থাকেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে ওই হস্টেলের নিরাপত্তারক্ষীরা অসুস্থ ছাত্রীদের মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করেন। সেখানেই এখন তাঁদের চিকিৎসা চলছে। ছাত্রীদের দাবি, রাতের খাবারে মাদক মেশানো হয়েছিল। আর ওই মাদক মোশানো খাবার খেয়েই একে একে সবাই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। খাবার খেয়ে বমি হয়নি ঠিকই, কিন্তু নেশারগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল সবাই।

এই অভিযোগ স্বয়ং ছাত্রীরা করার পর থেকে নানা গুঞ্জন শুরু হয়ে গিয়েছে। এমনকী ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। এই অভিযোগ ওঠার পরই ওই হস্টেলের রান্নাঘরের একটি সিসিটিভি ফুটেজ পুলিশ জোগাড় করেছে। যেখানে অভিযুক্ত রাঁধুনিকে কিছু মেশাতে দেখা যাচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তবে ওই হস্টেলে থাকা ছাত্রীদের দাবি, পনিরের তরকারি থেকেই বিষয়টি ঘটেছে। কারণ ওই পনিরের তরকারি তাঁদের দু’জন সহপাঠী এবং হস্টেলের নিরাপত্তারক্ষী ও রাঁধুনি খাননি। তাই তাঁদের কেউই অসুস্থ হননি। কিন্তু যাঁরা যাঁরা ওই পনিরের তরকারি খেয়েছেন তাঁরা সবাই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।


এই অভিযোগ এখন পুলিশের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ছাত্রীদের অভিযোগ উড়িয়ে দিতে পারছে না পুলিশ। সুতরাং একটা অবিশ্বাসের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এই ঘটনা নিয়ে বহরমপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন হস্টেলের ছাত্রীরা। পুলিশ সূত্রে খবর, সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্ত রাঁধুনিকেও আটক করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। কেন্দ্রীয় তপশিল গার্লস হস্টেল কর্তৃপক্ষের দাবি, তাঁরা চেয়েছিল আগে ছাত্রীদের দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে সুস্থ করতে। তাই পুলিশে অভিযোগ করতে দেরি হয়। তবে এই ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।