চূড়ান্ত তালিকায় একই গ্রাম থেকে বাদ ৩৫০ ভোটার

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

একই গ্রাম থেকে এসআইআরের শুনানিতে ডাক পড়েছিল ৫০০ জন গ্রামবাসীর। এরপরে নির্বাচন কমিশনের তরফে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর দেখা গেল ওই ৫০০ জন গ্রামবাসীর মধ্যে নাম নেই ৩৫০ জনের। এই খবর পৌঁছতেই আতঙ্কে নদিয়ার শান্তিপুরের গোটা একটা গ্রাম। ভবিষ্যতের কথা ভেবে চিন্তিত গ্রামবাসীরা। নাগরিকত্ব হারাবেন নাকি দেশত্যাগ করতে হবে তা নিয়ে সকলের মনে উঠছে প্রশ্ন।

শান্তিপুর থানার অন্তর্গত হরিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ৬৬ নম্বর বুথ নীলকুঠি পাড়া। এই বুথে মোট ভোটারের সংখ্যা ১০২৫ জন। রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়ার জেরে ভোটার তালিকা থেকে ৫০ জন মৃত ভোটারের নাম আগেই বাতিল হয়ে গিয়েছিল। এরপর এই বুথে ভোটারের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় ৯৭৫ জন-এ। তারপরে আবার শুনানি প্রক্রিয়ায় ৫০০ জন গ্রামবাসীদের তলব করা হয়। শুনানিতে হাজির হয়ে উপযুক্ত নথিপত্র জমা দেন ভোটাররা। কিন্তু কমিশনের তরফে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর তা দেখে চিন্তায় ঘুম উড়েছে গ্রামবাসীদের।

নাম বাদ পড়া গ্রামবাসীদের বক্তব্য, তাঁরা সকলেই বাংলাদেশ থেকে এসেছেন। কিন্তু তাঁদের সবকিছু নথিপত্র আছে। এসআইআরের ফর্ম পূরণ করার সময় যাবতীয় নথি তাঁরা জমা দিয়েছেন। শুনানি প্রক্রিয়া চলাকালীন হাজিরাও দিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু তারপরেও চূড়ান্ত তালিকা থেকে কেন নাম বাদ পড়ল তা নিয়ে চিন্তায় ৫০০ গ্রামবাসী।


এই পরিস্থিতির জন্য বিএলও-দের দায়ী করেছে অনেক গ্রামবাসী। গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, ‘বিএলও-র গাফিলতির কারণেই তাঁদের হয়রানির মধ্যে পড়তে হচ্ছে।’ যদিও, ভোটারদের তোলা অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন বিএলও। বিএলওর দাবি, যাঁদের ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গিয়েছে তাঁরা সম্পূর্ণ ফর্ম পূরণ করেননি। নির্বাচন কমিশনের যে নিয়ম-বিধি রয়েছে সেই নিয়মবিধি অনুযায়ী তাঁদের এসআইআর শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। সেখানেও তাঁরা যথেষ্ট নথিপত্র দেখাতে পারেননি। তবে আগামী দিনে এই সাড়ে তিনশো ভোটারের ভবিষ্যৎ
কী হবে তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছে সকলে।