শপথ নিলেন ৩৫ জন মন্ত্রী

রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ ঘিরে সোমবার সকাল থেকেই উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে লোকভবনে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকারের নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। রাজ্যপাল আরএন রবি নির্ধারিত সময়েই লোকভবনে পৌঁছে যান এবং তাঁর উপস্থিতিতেই শুরু হয় শপথগ্রহণ পর্ব। বন্দেমাতরম ও জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। রবিবার তিনি ঘোষণা করেছিলেন যে তাঁর মন্ত্রিসভায় আরও ৩৫ জন নতুন সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। সেই অনুযায়ী সোমবার একে একে নতুন মন্ত্রীরা শপথ নেন। শপথগ্রহণের আগে মুখ্যসচিব মনোজ অগ্রবাল মন্ত্রীদের নাম ঘোষণা করেন। এরপর রাজ্যপাল তাঁদের শপথবাক্য পাঠ করান।

পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তাপস রায়, মনোজ ওরাওঁ, অর্জুন সিংহ, গৌরীশঙ্কর ঘোষ, দীপক বর্মন, স্বপন দাশগুপ্ত, কল্যাণ চক্রবর্তী, শঙ্কর ঘোষ এবং দুধকুমার মণ্ডল। পাশাপাশি স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন মালতি রাভা রায় এবং ইন্দ্রনীল খাঁ। এছাড়াও প্রতিমন্ত্রী পদে দায়িত্ব পান অশোক দিন্ডা, শান্তনু প্রামাণিক, উমেশ রায়, পূর্ণিমা চক্রবর্তী, ভাস্কর ভট্টাচার্য, কালিতা মাজি, বিরাজ বিশ্বাস, দীপঙ্কর জানা-সহ আরও অনেকে।


শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে নতুন মন্ত্রীদের বেশিরভাগকেই দেখা যায় ঐতিহ্যবাহী বাঙালি পোশাকে। ধুতি-পাঞ্জাবি পরে অনেকেই অনুষ্ঠানে যোগ দেন। নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় বাংলা সংস্কৃতির ছাপ স্পষ্ট ছিল বলেই মত উপস্থিতদের একাংশের। তবে কার হাতে কোন দফতরের দায়িত্ব যাবে, তা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। ফলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা অব্যাহত রয়েছে যে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকগুলির দায়িত্ব কারা পেতে চলেছেন।

অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বহু নতুন মন্ত্রী তাঁদের পরিবারের সদস্যদেরও সঙ্গে নিয়ে আসেন। ফলে লোকভবনে এক আবেগঘন পরিবেশেরও সৃষ্টি হয়। পরিবারের সদস্যদের মুখে ছিল গর্ব ও উচ্ছ্বাসের ছাপ।

এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বালুরঘাটের সাংসদ ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল-সহ দলের একাধিক শীর্ষ নেতা। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চল, সামাজিক গোষ্ঠী এবং রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা করেছে বিজেপি সরকার। নতুন মন্ত্রীদের সামনে এখন প্রশাসনিক দায়িত্ব সফলভাবে পালন করে সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মসূচিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চ্যালেঞ্জ।