রামনবমীতে রাজ্যজুড়ে মোতায়েন ৩ হাজার পুলিশ

ফাইল চিত্র

বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে বৃহস্পতিবার রাজ্যজুড়ে পালিত হচ্ছে রামনবমী। উৎসবকে কেন্দ্র করে যাতে কোথাও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেই লক্ষ্যেই সপ্তাহব্যাপী কড়া নজরদারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য প্রশাসন। বুধবার নবান্নে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, ওই বৈঠকেই সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, রামনবমীকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সব ধরনের পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রায় তিন হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হবে। এমনকী, প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় বাহিনীকেও কাজে লাগানো হতে পারে।

সূত্রের খবর, নবান্নের ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, রাজ্যের ডিজি এবং এডিজি (আইনশৃঙ্খলা)-সহ শীর্ষ আধিকারিকরা। বৈঠকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে যোগ দেন রাজ্যের সব জেলার জেলাশাসক ও পুলিশ সুপাররা। বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই সব জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। ধর্মীয় প্রথা মেনে ২৬ থেকে ২৯ মার্চের মধ্যে বিভিন্ন জেলায় রামনবমীর শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে মনে করছে প্রশাসন। তবে কয়েকটি জেলায় এর পরেও সুবিধামতো দিনে রামনবমীর শোভাযাত্রা হতে পারে। তাই ২৯ মার্চের পরেও সতর্ক থাকবে পুলিশ-প্রশাসন। বৃহস্পতিবার হাওড়া-সহ কয়েকটি জেলায় শোভাযাত্রা বেরিয়েছে। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গিয়েছে, হাওড়ার শিবপুর, হুগলির চন্দননগর ও রিষড়ায় রামনবমীকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। কিন্তু এবারের পরিস্থিতি আরও একটু আলাদা। কারণ, রাজ্যজুড়ে চলছে বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার। তাই ভোটের প্রাক্কালে যাতে কোনোভাবেই আইনশৃঙ্খলার অবনতি না হয় সে দিকে বিশেষ জোর দিচ্ছে প্রশাসন।

জানা গিয়েছে, নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে প্রতিটি এলাকায় শোভাযাত্রার জন্য নির্দিষ্ট নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। ওই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট রুট মেনে শোভাযাত্রা এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। প্রতি শোভাযাত্রায় সর্বাধিক ৫০০ জন অংশগ্রহণ করতে পারবেন। যে সব জেলায় বেশি সংখ্যায় রামনবমী পালনের সম্ভাবনা রয়েছে, সেই সব এলাকায় বাড়তি নজরদারি ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের সার্বিক পরিস্থিতির নজর রাখতে এবং আপৎকালীন পরিস্থিতিতে দ্রুত সাহায্য পৌঁছে দিতে নবান্নে একটি কন্ট্রোল রুম চালু রাখা হবে। প্রশাসনের মূল লক্ষ্য হল, নির্বাচনের আবহের মধ্যেও যাতে উৎসবের আনন্দ অটুট থাকে এবং সর্বত্র শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে তা নিশ্চিত করা।