রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে একাধিক নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিচ্ছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করাই কমিশনের মূল লক্ষ্য। সেই উদ্দেশ্যে রাজ্যে বিপুল পরিমাণ কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, এবারের নির্বাচনে মোট প্রায় ২ হাজার ৪০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়োগ করা হবে, যা সংখ্যার দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ইতিমধ্যেই চলতি মাসের শুরুতেই ৪৮০ কোম্পানি বাহিনী রাজ্যে এসে পৌঁছেছে। আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে আরও ৩০০ কোম্পানি বাহিনী আসার কথা রয়েছে। এরপর ধাপে ধাপে বাকি বাহিনীও মোতায়েন করা হবে।
এই বিশাল বাহিনীকে কীভাবে এবং কোথায় ব্যবহার করা হবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যে একাধিক বৈঠক করেছে কমিশন। সোমবার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে, যা ভার্চুয়াল মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হবে। ডেপুটি কমিশনার মণীশ গর্গের নেতৃত্বে এই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন বনকুমার শর্মা, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল সহ অন্যান্য প্রশাসনিক কর্তারা। এরপর জেলা নির্বাচনী আধিকারিক, জেলাশাসক, পুলিশ সুপার ও পুলিশ কমিশনারদের সঙ্গে আরও একটি বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল—এই দুই দফায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনওভাবেই রক্তপাত বা অশান্তি বরদাস্ত করা হবে না। কেন্দ্রীয় বাহিনী শুধু ভোটকেন্দ্রেই নয়, আশপাশের এলাকাতেও টহল দেবে এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত হস্তক্ষেপ করবে। ভোটারদের ভয় দেখানো বা হুমকির অভিযোগ প্রমাণিত হলে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হতে পারে।
এছাড়া ‘ট্রাবল মঙ্গার’দের চিহ্নিত করে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় রুট মার্চ করা হবে। কলকাতা-সহ একাধিক এলাকায় ইতিমধ্যেই বিশেষ রুট ম্যাপ প্রস্তুত করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে, যাতে ভোট প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ নিরাপদ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা যায়।