ঝাড়খণ্ড-ওড়িশা থেকে আসবেন ২০০ বিচারক

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার জটিলতা দূর করতে বৃহস্পতিবার আবার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসল কলকাতা হাইকোর্ট। প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের নেতৃত্বে হওয়া এই বৈঠক প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চলে। উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল, রাজ্য পুলিশের ডিজি পীযূষ পাণ্ডে, কলকাতার পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকার এবং বিশেষ রোল পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত।

সূত্রের খবর, বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে ২১ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে যে তথ্যগত অসঙ্গতির সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছিল, সেটিকেই চূড়ান্ত ধরা হবে এবং নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে সেই সংখ্যা ঘোষণা করবে। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের বাকি বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের লগ-ইন আইডি ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা দ্রুত সম্পূর্ণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে তাঁরা অবিলম্বে কাজ শুরু করতে পারেন। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) কাজের জন্য ঝাড়খণ্ড এবং ওড়িশা থেকে ১০০ জন করে বিচারক চেয়ে পাঠাল কলকাতা হাইকোর্ট। এর আগে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, প্রয়োজনে পার্শ্ববর্তী রাজ্য থেকে বিচারক চাওয়া যেতে পারে। তার পরেই পদক্ষেপ করা হয়েছে। আদালত সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার বিচারকের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়ে ওই দুই রাজ্যের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে কলকাতা হাইকোর্ট।

এছাড়া ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশা থেকে আসা বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের থাকার জায়গা, খাবার ও অন্যান্য পরিকাঠামোগত বিষয় নিয়েও সিদ্ধান্ত হয়েছে। ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে জমা পড়া কিন্তু এখনও আপলোড না হওয়া সমস্ত নথি দ্রুত আপলোড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় নিযুক্ত বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের কাজের অগ্রগতির রিপোর্ট প্রতিদিন হাই কোর্টকে জানাবে নির্বাচন কমিশন।


মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন, মোট ৫৩০ জন বিচার বিভাগীয় আধিকারিককে এই প্রক্রিয়ায় নিযুক্ত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে প্রায় ২৭০-২৮০ জন ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছেন, বাকিদের জন্য লগ-ইন আইডি ও ড্যাশবোর্ড তৈরির কাজ চলছে। বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত জানিয়েছেন, প্রতিবেশী রাজ্য থেকে আরও প্রায় ২০০ জন আধিকারিক এই কাজে যুক্ত হতে পারেন।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, সংশোধিত ভোটার তালিকায় আপাতত প্রায় ৭ কোটি ৮ লক্ষ নাম থাকবে। তালিকায় অনুমোদিত ভোটারদের নাম ‘অ্যাপ্রুভড’ হিসেবে থাকবে, বাদ পড়া নামের পাশে ‘ডিলিট’ উল্লেখ থাকবে এবং যেসব নাম বিচার বিভাগীয় যাচাইয়ের অধীনে রয়েছে, সেগুলি ‘অ্যাজুডিকেশন’ হিসেবে চিহ্নিত হবে। নতুন ভোটারদের জন্য আলাদা সম্পূরক তালিকাও প্রকাশ করা হবে।

বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত হয়, ২৮ তারিখের মধ্যে বাহিনী আসছে। ১ মার্চ থেকে কাজ শুরু করে দেবে এই বাহিনী। ওই সময় থেকে আইনগত কোনও সমস্যা হলে ডিএম, এসপি তাদের কাজে লাগাতে পারবে। সেন্ট্রাল ফোর্স এখনো এলকা পরিদর্শন করবে। সেন্ট্রাল ফোর্স বসে থাকবে না। এরপর পাঁচের পৃষ্ঠায়