ভোট সামলাতে কলকাতায় নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে। লালবাজারের অনুমান, শহরে ভোট সামলাতে প্রায় ২০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন হতে পারে। পরিস্থিতি অনুযায়ী এই সংখ্যা আড়াইশো কোম্পানিতেও পৌঁছতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। শহরের স্কুল ছাড়াও ওই বিপুল সংখ্যক বাহিনীকে কোন কোন কমিউনিটি হলে রাখা হবে, তা নিয়ে এখন থেকেই পরিকল্পনা করছে লালবাজার।
ইতিমধ্যেই কলকাতায় এসে পৌঁছেছে ১০৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। তারা প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় শহরের বিভিন্ন প্রান্তে রুট মার্চ করছে। পাশাপাশি, ভোটারদের মধ্যে আস্থা গড়ে তুলতে ‘কনফিডেন্স বিল্ডিং মেজার’ বা সিবিএম চালু করা হয়েছে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলিতে পুলিশকর্তাদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনী যৌথভাবে টহল দিচ্ছে। কোনও অশান্তি বা বেআইনি কার্যকলাপের খবর পেলেই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যবস্থা নিচ্ছে তারা। শহরের রাস্তায় সিআরপিএফের বুলেটপ্রুফ সাঁজোয়া গাড়ির টহলও নজরে পড়ছে।
আগামী ২৩ এপ্রিল রাজ্যের ১৫২টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে। সেই কারণে বর্তমানে কলকাতায় থাকা ১০৫ কোম্পানির বেশিরভাগ কেন্দ্রীয় বাহিনীর একটি বড় অংশকে জেলাগুলিতে পাঠানো হচ্ছে। জেলা প্রশাসন তাদের থাকার ব্যবস্থা করছে। ২৯ এপ্রিল কলকাতায় ভোট হওয়ার কথা, তাই ২৩ এপ্রিলের পর থেকেই জেলায় পাঠানো বাহিনী আবার শহরে ফিরবে। পাশাপাশি, আরও নতুন বাহিনীও এসে যোগ দেবে। লালবাজারের কর্তাদের মতে, অন্তত দুশো কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী বা আধাসেনা কলকাতায় আসতে পারে।
এত বিপুল সংখ্যক বাহিনীর থাকার ব্যবস্থা করতে শহরের বিভিন্ন স্কুল, কমিউনিটি হল, এমনকি বিয়েবাড়িও চিহ্নিত করা হচ্ছে। প্রতিটি থানার আধিকারিকরা আগেভাগেই এই স্থানগুলি পরিদর্শন করে জল, বিদ্যুৎ, শৌচাগার এবং রান্নার প্রয়োজনীয় সুবিধা রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখছেন। পাশাপাশি, কন্ট্রোল রুম ও অস্ত্রাগারের জন্য আলাদা ঘরের ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে।
এবার কেন্দ্রীয় বাহিনীর পদস্থ কর্তাদেরও থাকতে হচ্ছে বাহিনীর জওয়ান ও অন্যান্য আধিকারিকদের সঙ্গেই। কোম্পানির দায়িত্বে থাকা অ্যাসিস্ট্যান্ট কম্যান্ডান্ট, ডেপুটি কম্যান্ডান্টদের থাকার জন্য আলাদা কয়েকটি ঘরের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, ২৩ এপ্রিলের পর শহরের অলিগলিতে রুট মার্চ বাড়ানো হবে, যাতে ভোটের সময় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।