বারুইপুর কাণ্ডে সরকারি সম্পত্তি নষ্ট ও পুলিশের উপর হামলার অভিযোগে গ্রেপ্তার ২০

প্রতীকী চিত্র

বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়া অশান্তির ঘটনায় সরকারি সম্পত্তি নষ্ট ও পুলিশের উপর হামলার অভিযোগে ২০ জনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। বুধবার সকালে ধৃতদের বারুইপুর আদালতে তোলা হয়।

মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশের এই পদক্ষেপকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। নাবালিকার ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন আগে বারুইপুরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভ চলাকালীন রাস্তা অবরোধ, রেললাইন উপড়ে ফেলে ট্রেন চলাচলে বাধা সৃষ্টি এবং সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। পাশাপাশি পুলিশের উপর হামলার ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ।

মঙ্গলবার বারুইপুর সফরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, অশান্তির সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি দাবি করেন, ঘটনায় জড়িত প্রায় ২০০ জনকে ইতিমধ্যেই চিহ্নিত করা হয়েছে এবং প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এরই মধ্যে বুধবার সকালে সরকারি সম্পত্তি নষ্ট ও পুলিশের উপর হামলার অভিযোগে ২০ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ধৃতদের আদালতে তোলার সময় বারুইপুর আদালত চত্বরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। যে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন ছিল। ধৃতদের পরিবারের সদস্যরাও আদালত চত্বরে উপস্থিত ছিলেন।

তবে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের দাবি, তাঁরা ঘটনার সঙ্গে কোনওভাবেই যুক্ত নন। পুলিশের উপর হামলা বা সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করার অভিযোগও তাঁরা অস্বীকার করেছেন। এদিকে বারুইপুর ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের এনকাউন্টারে মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরেও রাজ্যজুড়ে চর্চা শুরু হয়েছে। এই আবহে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, যে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয়েছিল, পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে তিনি নির্দোষ বলে উঠে এসেছে।

সেই হত্যাকাণ্ডেরও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে এবং প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। বারুইপুরের অশান্তি, অভিযুক্তের এনকাউন্টার এবং গণপিটুনির ঘটনাকে ঘিরে পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে প্রশাসন।