সুরাতের ভারাচহা এলাকার একটি জরি কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। আগুনে ঝলসে মৃত্যু দুই জনের। অগ্নিদগ্ধ হয়ে গুরুতর জখম অন্তত ৯ জন। বৃহস্পতিবার সকালে ভারাচহার ভারত নগর গোশালা এলাকার ওই কারখানায় প্রথমে আগুন লাগে। অল্প সময়ের মধ্যেই সেখানে মজুত থাকা একাধিক গ্যাস সিলিন্ডারে পরপর বিস্ফোরণ ঘটে, যার ফলে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
জানা গিয়েছে, যে ভবনে কারখানাটি চলত, তার ছাদেই শ্রমিকরা বসবাস করতেন। আগুন লাগার পর তাঁরা বেরোতে না পেরে ভিতরেই আটকে পড়েন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের একাধিক ইঞ্জিন। উদ্ধারকর্মীরা ছাদের টিনের শেড কেটে শ্রমিকদের বাইরে বের করেন। এখনও পর্যন্ত মোট ১১ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া শ্রমিকদের মধ্যে দু’জন গুরুতরভাবে দগ্ধ হয়ে মারা গিয়েছেন। আরও অন্তত ৯ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের অবস্থাও উদ্বেগজনক বলে জানা গিয়েছে, ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই কারখানায় মোট ৮টি গ্যাস সিলিন্ডার মজুত ছিল। এতগুলো সিলিন্ডার সেখানে কীভাবে রাখা হয়েছিল এবং সেগুলির প্রয়োজনীয়তা কী ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কারণেই আগুন এত দ্রুত ভয়াবহ আকার ধারণ করে।
ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ ও ফরেনসিক দল। কে বা কারা এত বিপুল পরিমাণ গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ করেছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে অবৈধভাবে গ্যাস সিলিন্ডার রিফিলের বিরুদ্ধে প্রশাসন কড়াকড়ি শুরু করেছে। ইতিমধ্যে শহরের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে ১৩ জনকে আটক করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কারখানায় এতগুলো সিলিন্ডার মজুত থাকা নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।