১০০ দিনের কাজের টাকা তছরুপের অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন দুই তৃণমূল নেতা। পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ার কড়ুই অঞ্চলের ঘটনা। এই আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনায় নাম জড়িয়েছে দলের পূর্ব বর্ধমান জেলা সভাপতিরও। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে। জানা গিয়েছে, তৃণমূল নেতা দিগন্ত পাল ও বিশ্বনাথ সাহার বিরুদ্ধে ১০০ দিনের কাজের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।
এরপরই সক্রিয় হয় কাটোয়া থানার পুলিশ। শনিবার রাতে কাটোয়া স্টেশন বাজার এলাকা থেকে দিগন্তকে আটক করে পুলিশ। দিগন্তর থেকে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে বিশ্বনাথ সাহা নামে আর এক তৃণমূল নেতাকে আটক করে পুলিশ। পরে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযোগ, ওই দুই তৃণমূল নেতা উপভোক্তাদের অন্ধকারে রেখে তাঁদের নামে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলেছিলেন। সেই অ্যাকাউন্টগুলিতেই দিনের পর দিন জমা পড়ত ১০০ দিনের কাজের টাকা। পরে ওই দুই নেতা সেই টাকা তুলে নিতেন। এই অভিযোগ সামনে আসতেই কাটোয়ার কড়ুই অঞ্চলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
এই ঘটনায় স্থানীয় কয়েক জন তৃণমূল নেতার পাশাপাশি নাম জড়িয়েছে তৃণমূলের পূর্ব বর্ধমান জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়েরও। স্থানীয়দের অভিযোগ, দিগন্ত জেলা সভাপতির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন। কড়ুই অঞ্চলের নতুনগ্রামের বাসিন্দা ওমর আলি শেখ নামে এক বাসিন্দা কাটোয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত চালায় কাটোয়া থানার পুলিশ।
ওমর জানিয়েছেন, কয়েক দিন আগে তিনি জানতে পারেন তাঁর নামে পশ্চিমবঙ্গ গ্রামীণ ব্যাঙ্কের কৈথন শাখায় একটি অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। অথচ সেই অ্যাকাউন্টের বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না। তবে শুধু তাঁর নামেই নয়, গ্রামের আরও বহু বাসিন্দার নামে এমন ভুয়ো অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছিল। ওমর ও অন্য গ্রামবাসীদের অভিযোগ, ওই সব অ্যাকাউন্টে ২০১৬ থেকে ২০২২ পর্যন্ত ১০০ দিনের কাজের টাকা জমা হয়েছে।
পরে উপভোক্তাদের না জানিয়েই ওই টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারী ওমরের দাবি, কাটোয়ার ছোট-বড় একাধিক তৃণমূল নেতা-কর্মী এই জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত। ওমর তাঁর লিখিত অভিযোগে জেলা তৃণমূল সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়, তাঁর আপ্ত সহায়ক দিগন্ত পাল ছাড়াও বিশ্বনাথ সাহা এবং কড়ুই অঞ্চলের তৃণমূল সভাপতি সুকেশ চট্টোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ করেছেন।
দুর্নীতির রহস্য ভেদ করতে ধৃত দিগন্ত ও বিশ্বনাথকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। কাটোয়ার বিজেপি নেতা স্বপন দত্ত বলেছেন, তৃণমূলের সকলেই দুর্নীতিতে জড়িত। ক্ষমতায় থাকার কারণে মানুষ এতদিন তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে মুখ খুতে ভয় পেতেন। কিন্তু ক্ষমতার পালাবদল হতেই এখন সাধারণ মানুষ অভিযোগ জানাতে পারছেন। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন তৃণমূল জেলা সভাপতি।