পূর্ব বর্ধমানে পৃথক দুর্ঘটনায় মৃত্যু ২ জনের, আহত একাধিক

প্রতীকী চিত্র

রবিবার পূর্ব বর্ধমানে পৃথক দুটি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন দুজন। একটি ঘটনা ঘটেছে রায়নায় অন্যটি ঘটেছে ভাতারে। রায়নায় ট্র্যাক্টর উল্টে যাওয়ায়, আর ভাতারে গাড়ির ধাক্কায়। এই দুই দুর্ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে খবর, উত্তর ২৪ পরগনার হাসনাবাদ এবং সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকা থেকে মোট ২১ জন শ্রমিকের একটি দল আলু তোলার কাজ করতে রায়নায় এসেছিলেন। প্রতি বছরের মতো এ বছরও শনিবার তাঁরা পূর্ব বর্ধমানে পৌঁছেছিলেন। রবিবার সকালে হিজলনা থেকে জাকতা যাওয়ার পথে শ্মশানের কাছে হঠাৎই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায় তাঁদের বহনকারী ট্র্যাক্টরটি। ট্র্যাক্টরে থাকা শ্রমিকেরা ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।

স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা মনোরঞ্জন মণ্ডল (৬০) নামে এক কৃষককে মৃত বলে ঘোষণা করেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলেও জানা গিয়েছে।


স্থানীয়দের অভিযোগ, ট্র্যাক্টরটির গতি অত্যন্ত বেশি ছিল বলেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। আহত শ্রমিক বিশ্বজিৎ হালদার জানান, তাঁরা চালককে বারবার সাবধানে গাড়ি চালানোর অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু চালক তাঁদের কথা না শোনায় শেষ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে।

অন্যদিকে, একই দিনে ভোরবেলায় পূর্ব বর্ধমানের ভাতারে আরেকটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। আউশগ্রাম থানার অন্তর্গত বর্ধমান–বোলপুর ১১৪ নম্বর জাতীয় সড়কের বড়াচৌমাথা সংলগ্ন করুঞ্জি মোড়ে একটি দ্রুতগতির গাড়ির ধাক্কায় মৃত্যু হয় এক সাইকেল আরোহীর। মৃতের নাম নুরুল ইসলাম খাঁ (৬৫)। তাঁর বাড়ি ভাতার থানার শিকারপুর গ্রামে।

জানা গিয়েছে, গাড়ির ধাক্কায় তিনি সড়কে ছিটকে পড়েন এবং গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে গুসকরা ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। নুরুল ইসলাম সাবান ফেরি করতেন। হঠাৎ এই দুর্ঘটনায় তাঁর পরিবারের উপর নেমে এসেছে গভীর শোক।