মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রাক্তন আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ খুনের তদন্তে বড় সাফল্য পেল সিবিআই। উত্তরপ্রদেশের বালিয়ার আদালতে আত্মসমর্পণের পর গ্রেপ্তার করা হয়েছে জ্ঞানেন্দ্র প্রতাপ সিং ওরফে মনুকে। একইসঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডে অস্ত্র সরবরাহে জড়িত থাকার অভিযোগে গোলু সিং ওরফে টাইগারকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিল জ্ঞানেন্দ্র। তার বিরুদ্ধে তোলাবাজি, হুমকি-সহ একাধিক মামলা রয়েছে। গত ২৫ মে তার বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। তদন্ত চলাকালীন সিসিটিভি ফুটেজে তার উপস্থিতি ধরা পড়ে। বারবার বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। পরিবারের সদস্যদের উপরও জিজ্ঞাসাবাদের চাপ বাড়তে থাকে। অবশেষে আদালতে আত্মসমর্পণ করে সে। আদালত তাকে ১৪ দিনের সিবিআই হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।
অন্যদিকে, বালিয়া থেকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে গোলু সিং ওরফে টাইগারকে। তদন্তকারীদের দাবি, চন্দ্রনাথ রথকে খুন করার সময় যে ধরণের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয় তা সরবরাহে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। শুধু অস্ত্র জোগাড়ই নয়, সেই অস্ত্র ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেওয়ার সঙ্গেও সে যুক্ত ছিল বলে অভিযোগ। তাকে ৪৮ ঘণ্টার ট্রানজিট রিমান্ডে কলকাতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ৬ মে রাতে নিজাম প্যালেস থেকে ফেরার পথে মধ্যমগ্রামে দুষ্কৃতীদের গুলিতে নিহত হন চন্দ্রনাথ রথ। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে ঘটনাস্থল ছাড়ে দুষ্কৃতীরা। গুরুতর জখম হন তাঁর গাড়ির চালকও। তদন্তকারীদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে নজরদারি চালিয়ে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এই খুন করা হয়েছিল। ভিনরাজ্যের পেশাদার শার্প শুটারদের ব্যবহার করা হলেও স্থানীয় স্তরে সহযোগিতার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
প্রথমে রাজ্য পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট তদন্ত শুরু করলেও পরে মামলার দায়িত্ব নেয় সিবিআই। ইতিমধ্যেই একাধিক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের জেরা করে আরও কয়েকজনের নাম সামনে এসেছে। সেই সূত্র ধরেই উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে একের পর এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।তবে এতগুলি গ্রেপ্তারির পরও এখনো পর্যন্ত স্পষ্ট হয়নি কেন চন্দ্রনাথ রথকে নিশানা করা হয়, বা এই হত্যার মূল ষড়যন্ত্রকারী কারা। সেই উত্তর খুঁজতেই ধৃতদের জেরা করে তদন্ত চালাচ্ছেন সিবিআই আধিকারিকরা।