আনন্দপুরের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৮। অন্যদিকে নিখোঁজের সংখ্যা একাধিক। স্বজন হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন কারখানায় কাজ করা শ্রমিক পরিবারের সদস্যরা। যাঁদের এখনও খোঁজ মেলেনি তাঁদের অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁরা। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিখোঁজ শ্রমিকের মধ্যে রয়েছেন পূর্ব মেদিনীপুরে ১৩ জন শ্রমিক। সোমবার সকালে এই ভয়ঙ্কর আগুনের ঘটনার খবর পান তাঁরা। তারপর থেকেই বেড়েছে উদ্বেগ। অনেকেই দক্ষিণ কলকাতার আনন্দপুরে রয়েছেন। প্রিয়জনদের একটা খবরের জন্য অপেক্ষা করছেন তাঁরা।
প্রশাসন সূত্রে খবর পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পাঁশকুড়ার শ্রীকৃষ্ণ মাইতি, বাপন মাঝি, সমরেশ পথিকর, তপন দোলুই, ময়নার বুদ্ধদেব জানা, সৌমিত্র মণ্ডলের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়াও নিখোঁজের তালিকায় আছেন তমলুক ব্লকের দেবাদিত্য দিন্দা, বিমল মাইতি, গোবিন্দ মণ্ডল, রামপদ মণ্ডল, ক্ষুদিরাম দিন্দা, শশাঙ্ক জানা। নন্দকুমারের গড়গোদা এলাকার বাসিন্দা সন্দীপ মাইতিরও খোঁজ পাচ্ছে না পরিবার।
সোমবার নিখোঁজদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন প্রশাসনিক কর্তারা। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার জেলাশাসক ইউনিস ঋষীন ইসমাইল জানিয়েছেন, পরিবারের লোকজনদের অনেকেই সোমবারই দুর্ঘটনাস্থলে চলে গিয়েছেন। পুলিশ অফিসার, মহকুমা শাসক থেকে অন্যান্য আধিকারিকরা ওইসব পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন। সব রকম সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। আনন্দপুরেও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিনজন আধিকারিক পৌঁছে গিয়েছেন।
রবিবার গভীর রাতে আনন্দপুরের নাজিরাবাদের একটি খাবারের কারখানা ও গুদামে আগুন লাগে। ওই কারখানার কোনও অনুমোদন ছিল না বলে জানিয়েছেন দমকল। মঙ্গলবার বেলা ১১টা নাগাদ ঘটনাস্থলে যান দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। দমকলমন্ত্রীর সামনেই এই কথা স্বীকার করেন দমকল বিভাগের ডিজি। কীভাবে অনুমোদনহীন কারখানা চলছিল তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।