মাইক্রো অবজারভার হিসেবে এলআইসি কর্মী নিয়োগ

কলকাতা হাইকোর্ট। ফাইল চিত্র

এসআইআর প্রক্রিয়ায় এলআইসি কর্মীদের মাইক্রো অবজারভার হিসেবে নিয়োগ ঘিরে বিতর্কে কড়া অবস্থান নিল কলকাতা হাইকোর্ট। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও নির্দেশ দিয়েছেন, আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে নির্বাচন কমিশন এবং এলআইসি কর্তৃপক্ষ-উভয়কেই বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে। এই মামলার পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত হয়েছে আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি।

মামলাকারীদের অভিযোগ, এসআইআরের কাজে মোট ১২০৪ জন এলআইসি কর্মীকে মাইক্রো অবজারভার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। অথচ এই কর্মীরা মূলত বিক্রয় ও পরিষেবা সংক্রান্ত কাজে যুক্ত। তাঁদের আয় অনেকটাই নির্ভর করে দৈনন্দিন কাজের পারফরমেন্সের উপর। নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করলে তাঁরা বোনাস ও পারফরমেন্স ইনসেনটিভ পান। এসআইআরের কাজে দীর্ঘ সময় যুক্ত থাকায় তাঁরা নিজেদের মূল পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না। তার ফলে আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে বলে দাবি মামলাকারীদের।

এদিন শুনানির সময় বিচারপতি কৃষ্ণা রাও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ, নির্বাচন কমিশনের অধিকার রয়েছে বিভিন্ন সরকারি বা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার কর্মীদের নির্বাচনী কাজে ব্যবহার করার। কিন্তু সেক্ষেত্রে এলআইসি কর্তৃপক্ষ কেন এই নির্দিষ্ট কর্মীদেরই মনোনীত করল, তা স্পষ্ট নয়। বিচারপতির প্রশ্ন, কমিশনের অনুরোধ থাকলেও কি বিকল্প কর্মী পাঠানো সম্ভব ছিল না? যদি সম্ভব হয়, তা হলে কেন তা করা হয়নি?

আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, শুনানিতে নির্বাচন কমিশন বা এলআইসি–কোনও পক্ষই এই প্রশ্নগুলির সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেনি। কী প্রক্রিয়ায় কর্মীদের নির্বাচন করা হয়েছে বা তাঁদের পেশাগত ও আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে কি না, সে সম্পর্কেও পরিষ্কার ব্যাখ্যা মেলেনি। সেই কারণেই আদালত বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে।


আইনি মহলের মতে, এই মামলার রায় ভবিষ্যতে নির্বাচনী কাজে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার কর্মীদের নিয়োগ সংক্রান্ত নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ দিশা দেখাতে পারে। বিশেষত যাঁদের আয় সরাসরি কর্মদক্ষতার সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের ক্ষেত্রে বিকল্প ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হতে পারে প্রশাসনকে। এখন নজর ২৩ ফেব্রুয়ারির শুনানির দিকে।