রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউসিসি চালুর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন পশ্চিমবঙ্গের নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি বলেন, ভারত একটি বহুত্ববাদী দেশ। এখানে বিভিন্ন ধর্ম, ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষ একসঙ্গে বসবাস করেন। তবে দেশের স্বার্থে সকল নাগরিকের জন্য এক ধরনের নিয়ম থাকা প্রয়োজন। কারণ তা না হলে তা সংবিধানের পক্ষে ঠিক নয় বলেও বুঝিয়ে দেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশে নানা ধর্ম ও ভাষার মানুষ রয়েছেন। কিন্তু দেশের জন্য সবার একটি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলা উচিত। কারণ প্রত্যেক ধর্ম ও ভাষার জন্য আলাদা আলাদা নিয়ম করতে গেলে তা সংবিধানের ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি করতে পারে।‘ তাঁর বক্তব্য, জাতি, ধর্ম ও বর্ণের বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের স্বার্থে একটি অভিন্ন আইনি কাঠামো থাকা দরকার।
Advertisement
ইউসিসি প্রসঙ্গে তিনি আরও জানান, এই বিষয়টি শুধুমাত্র আইনের প্রশ্ন নয়, বরং সমতা ও সামাজিক ন্যায়ের সঙ্গেও জড়িত। তাঁর মতে, সকল নাগরিকের জন্য সমান অধিকার এবং সমান আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত প্রধান লক্ষ্য।
Advertisement
এদিন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের উন্নয়ন নিয়েও বিশেষভাবে কথা বলেন অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি জানান, আজই তৃতীয় লিঙ্গের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তাঁদের সমস্যা ও প্রয়োজন সম্পর্কে সরাসরি জানার চেষ্টা করবেন তিনি। একই সঙ্গে রাজ্যে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের জন্য যে দফতর রয়েছে, সেখানে ঠিক কী ধরনের কাজ হয়েছে এবং কতটা কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তাও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, এই সম্প্রদায়ের সামাজিক সুরক্ষা ও উন্নয়নকে গুরুত্ব দিতেই সরকার উদ্যোগ নিতে চলেছে।
পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প নিয়েও সরব হন তিনি। অগ্নিমিত্রা পালের দাবি, অতীতে কেন্দ্রের বহু প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গে সঠিকভাবে কার্যকর করা যায়নি। ফলে সাধারণ মানুষ তার পূর্ণ সুবিধা পাননি। তিনি জানান, এখন তাঁর অগ্রাধিকার হবে সেই সমস্ত প্রকল্পের সুবিধা রাজ্যের সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
মন্ত্রী বলেন, “কেন্দ্রের যে সমস্ত যোজনা মানুষের সুবিধার জন্য তৈরি হয়েছিল, সেগুলি আগে এই রাজ্যে সঠিকভাবে লাগু হয়নি। এখন আমরা চাই, সাধারণ মানুষ যেন সেই সুবিধা পান।” পাশাপাশি প্রকল্পগুলিকে আরও উন্নত এবং কার্যকর করার দিকেও নজর দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
Advertisement



