বিশ্বকাপ ফুটবলের কথা উঠলেই দুটো দেশের নাম সবার মুখে মুখে ঘোরে। আর এই দুটো দলই বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সবার নজর কেড়ে নিয়েছে। একটা দল ফুটবল সম্রাট পেলের ব্রাজিল আর অন্য দলটি হল ফুটবলের রাজপুত্র দিয়াগো মারাদোনার আর্জেন্টিনা। বাছাই পর্বের খেলায় এই দুটো দলকে নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠেছিল। শেষ পর্যন্ত মূল পর্বে খেলার জন্য যখন এই দু’টি দেশের নামের উপরে সিলমোহর পড়ে গেল, তখন থেকেই ফুটবল দুনিয়া অন্য অনুভূতিতে জেগে উঠল।
ব্রাজিল দলে নেইমারকে নিয়ে অনেক কথা উঠেছিল। তাঁর চোট এবং ফিটনেস নিয়েও আলোচনায় মুখর ছিল সবাই। কোচ কার্লো আনচেলোত্তি প্রথম ৫০ জনের যে প্রশিক্ষণ শিবির সংগঠিত করেছিলেন, সেখানে নেইমারের নাম ছিল না। পরবর্তী ক্ষেত্রে নেইমারকে ডেকে আনা হয়েছিল প্রশিক্ষণ শিবিরে যোগ দেওয়ার জন্য। পাঁচ বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল দলে নেইমার থাকবে না, তা ভাবাই যায় না। শেষ পর্যন্ত নেইমারকে রেখেই কোচ কার্লো আনচেলোত্তি বিশ্বকাপ ফুটবলের জন্য ২৬ জন ফুটবলারের নাম ঘোষণা করলেন। তিন বছর পর নেইমারের জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তন হল।
Advertisement
এই ২৬ জনের মধ্যে দেখা গেল তিনজন গোলরক্ষককে জায়গা দেওয়া হয়েছে। ৯ জন রক্ষণভাগের ফুটবলার থাকছেন। মাঝমাঠে পাঁচজনকে রাখা হয়েছে। আর আক্রমণভাগে ৯ জনকে দেখতে পাওয়া যাবে। কোচের ভাবনায় ধরা পড়েছে ব্রাজিলকে গোলের খরা থেকে মুক্তি দিতে চাইছেন। তাই আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের সংখ্যা তিনি বাড়িয়ে রাখলেন। যাতে প্রতিপক্ষ দলের গোলের জালে বল জড়িয়ে দিয়ে জয়ের পথটা সহজ করে দিতে পারেন।
Advertisement
ব্রাজ়িলের হয়ে সর্বাধিক ৭৯ গোলের মালিক ৩৪ বছর বয়সী ফুটবলার নেইমার। তাঁর যা বয়স, তাতে এ বারের বিশ্বকাপ খেলতে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। কিন্তু নেইমারকে বার বার ভুগিয়েছে চোট। ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে তাঁর বাঁ পায়ের এসিএল ছিঁড়েছিল। তার পর থেকে পুরো সুস্থ হয়ে উঠতে পারেননি তিনি। চলতি মরসুমে স্যান্টোসের হয়ে আটটি ম্যাচ খেলেছেন নেইমার। করেছেন চারটি গোল। দু’টি
গোল করিয়েছেন।
আনচেলোত্তির মতে, নেইমার অনেকটাই সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এখনও সময় রয়েছে। ফলে নেইমারের মতো অভিজ্ঞ ফুটবলারকে তিনি দলে রেখেছেন। দলঘোষণার পর সাংবাদিক বৈঠকে আনচেলোত্তি বলেন, ‘ওর ফিটনেসে অনেক উন্নতি হয়েছে। এ বারের বিশ্বকাপে ও গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের আগে ও আরও সুস্থ হয়ে উঠবে বলে বিশ্বাস। ওর যা অভিজ্ঞতা তা গোটা দলকে এগিয়ে রাখবে।’ আনচেলোত্তির কথা থেকে স্পষ্ট, নেমারকে প্রথম একাদশে রেখেই পরিকল্পনা করছেন তিনি।
১১ জুন থেকে শুরু এ বারের বিশ্বকাপ। গ্রুপ সি-তে রয়েছে ব্রাজিল। ১৪ জুন মরক্কোর বিরুদ্ধে ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচ। তার পর ২০ জুন হাইতি ও ২৫ জুন স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে গ্রুপের বাকি দুই ম্যাচ খেলবে তারা।
বিশ্বকাপে ব্রাজিল দল: গোলরক্ষক— অ্যালিসন (লিভারপুল), এডেরসন (ফেনারবাচে) ও ওয়েভারটন (গ্রেমিয়ো)। ডিফেন্ডার— অ্যালেক্স সান্দ্রো, দানিলো, লিয়ো পেরেরা (ফ্ল্যামেঙ্গো), ব্রেমের (জুভেন্টাস), ইবানেজ (আল আহলি), ওয়েসলি (রোমা), মারকুইনহোস (পিএসজি), গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস (আর্সেনাল) ও ডগলাস স্যান্টোস (জ়েনিত সেন্ট পিটার্সবার্গ)। মিডফিল্ডার— ব্রুনো গিমারেস (নিউক্যাসল), ক্যাসেমিরো (ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড), দানিলো স্যান্টোস (বোটাফোগো), ফ্যাবিনহো (আল ইত্তিহাদ) ও লুকাস পাকুয়েতা (ফ্ল্যামেঙ্গো)। স্ট্রাইকার— এনড্রিক (লিয়ঁ), গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি (আর্সেনাল), ইগর থিয়াগো (ব্রেন্টফোর্ড), ম্যাথিয়াস কুনহা (ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড), রাফিনহা (বার্সেলোনা), ভিনিসিয়াস জুনিয়র (রিয়াল মাদ্রিদ), লুইস হেনরিকে (জ়েনিত সেন্ট পিটার্সবার্গ), নেইমার (স্যান্টোস) ও রায়ান (বোর্নমাউথ)
Advertisement



