• facebook
  • twitter
Wednesday, 6 May, 2026

সরকার বদলাতেই চিন্তায় সিভিক-সহ ৫ লক্ষ চুক্তিভিত্তিক কর্মী

বর্তমানে রাজ্যে সরকারি চাকরিতে প্রায় ৬ লক্ষ শূন্যপদ রয়েছে

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন চুক্তিভিত্তিক সরকারি কর্মীরা। আগের সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া এই কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী করার দাবিতে আন্দোলন করলেও তেমন সাফল্য মেলেনি। এখন নতুন সরকার গঠনের পর তাঁদের মধ্যে আশঙ্কা আরও বেড়েছে—চাকরি আদৌ থাকবে কি না বা ছাঁটাইয়ের মুখে পড়তে হবে কি না, তা নিয়ে জোর চর্চা চলছে বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে।

বর্তমানে রাজ্যে সরকারি চাকরিতে প্রায় ৬ লক্ষ শূন্যপদ রয়েছে। গ্রুপ এ, বি, সি এবং ডি স্তরের মিলিত কর্মীসংখ্যা মাত্র ৩ লক্ষ ১৭ হাজার। ফলে প্রশাসনের দৈনন্দিন কাজ চালাতে ব্যাপকভাবে নির্ভর করতে হয় চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের উপর। ডেটা এন্ট্রি অপারেটর, পিওন থেকে শুরু করে বিভিন্ন দপ্তরের সহায়ক কর্মী—প্রায় সব ক্ষেত্রেই তাঁদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এমনকী আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে নিযুক্ত সিভিক ভলান্টিয়াররাও এই অস্থায়ী ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত। সব মিলিয়ে এই ধরনের কর্মীর সংখ্যা প্রায় ৫ লক্ষ।

Advertisement

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন আগের সরকার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, এই কর্মীরা ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত নিজ নিজ পদে বহাল থাকতে পারবেন এবং তাঁদের চাকরি হঠাৎ করে চলে যাবে না। অবসরের পর কিছু সীমিত সুবিধার কথাও ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেই নিশ্চয়তা কতটা কার্যকর থাকবে, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

Advertisement

নবনির্বাচিত  বিজেপি  সরকার তাদের নির্বাচনী ইস্তাহারে সরকারি শূন্যপদ পূরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পাশাপাশি আগের আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত কিছু কর্মীর ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক স্তরে কড়াকড়ি শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ। নবান্নের বিভিন্ন দপ্তরের ওএসডি এবং রিঅ্যাপয়ন্টেড কর্মীদের নবান্নে যেতে নিষেধ করে দেওয়া হয়েছে। সেই মর্মে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন খোদ মুখ্যসচিব। স্বাভাবিকভাবেই এই পাঁচ লক্ষ অস্থায়ী কর্মী ও সিভিক ভলান্টিয়ারদের মধ্যে উদ্বেগের বাতাবরণ তৈরি হয়েছে।

নতুন সরকার যদি এই অস্থায়ী পদ বিলুপ্ত করে স্থায়ী নিয়োগের পথে হাঁটে? সেক্ষেত্রে মমতার আমলের ওই লিখিত নির্দেশের উপর বিশেষ ভরসা রাখতে পারছেন না তাঁরা। তবে বাস্তব সমস্যা হল, এত বিপুল সংখ্যক চুক্তিভিত্তিক কর্মীকে হঠাৎ সরিয়ে দিলে প্রশাসনিক কাজকর্মই থমকে যেতে পারে। নতুন নিয়োগ সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এই শূন্যস্থান পূরণ করা কঠিন। ফলে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি।

Advertisement