• facebook
  • twitter
Monday, 4 May, 2026

সুজাপুরে ফুটল ঘাসফুল, ৬০ হাজারের বেশি ভোটে জয় সাবিনা ইয়াসমিনের

কংগ্রেস প্রার্থী আবদুল হান্নান তুলনামূলকভাবে ভালো ভোট পেলেও তৃণমূলের সংগঠিত শক্তির সামনে টিকতে পারেননি

বঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে সুজাপুর কেন্দ্র যেন আলাদা করে নজর কেড়েছে। দীর্ঘদিনের কংগ্রেস ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে শেষ পর্যন্ত জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী সাবিনা ইয়াসমিন। প্রায় ৬০ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন তিনি।

নিজের কেন্দ্র মোথাবাড়ি ছেড়ে সুজাপুরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ইয়াসমিনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। তবে সেই ‘অগ্নিপরীক্ষা’ তিনি দক্ষতার সঙ্গে পেরিয়ে গিয়েছেন। কংগ্রেস প্রার্থী আবদুল হান্নান তুলনামূলকভাবে ভালো ভোট পেলেও তৃণমূলের সংগঠিত শক্তির সামনে টিকতে পারেননি। কংগ্রেস প্রার্থী আবদুল হান্নান পেয়েছেন ৫২৫০৮ ভোট । ধারে কাছে নেই বিজেপি প্রার্থী অভিজিৎ রজক। তাঁর প্রাপ্ত ভোট ২০০৬৬। হারের ব্যবধান ৯২৭২৯। চতুর্থ হয়েছেন তিনি।

Advertisement

সুজাপুরের ভোটের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক। স্থানীয় মানুষের একাংশের মতে, বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ায় তৃণমূলের প্রতি তাদের সমর্থন বেড়েছে। পাশাপাশি বিজেপিকে ঠেকাতে কৌশলগত ভোটদানের প্রবণতাও ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে।

Advertisement

তবে এই ফলাফলের পেছনে আরও একটি বড় কারণ হল দীর্ঘদিনের পরিবারতন্ত্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ। প্রায় পাঁচ দশক ধরে গনি পরিবারের দখলে থাকা এই কেন্দ্রের মানুষ উন্নয়নহীনতার অভিযোগ তুলে পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন।সুজাপুরের নির্বাচনী ইতিহাসে ঘাটলে দেখা যাবে, আবু বরকত আতাউল গনি খান চৌধুরী এই কেন্দ্র থেকেই ৫ বার বিধায়ক হিসাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

তাঁর বোন রুবি নূর জিতেছেন ৪ বার। রুবির মেয়ে মৌসম বেনজির নূর জিতেছেন একবার‌। গনির ভাই আবু নাসের খান চৌধুরী জিতেছেন ২ বার। ডালুর ছেলে ঈশা খান চৌধুরী জিতেছেন একবার। যতবার গনি পরিবার এখানে জিতেছে ততবার এলাকার মানুষের না পাওয়া তালিকাও দীর্ঘ হয়েছে।  বাসস্ট্যান্ড, কলেজ, পানীয় জল, নিকাশি ব্যবস্থা বা শিল্পোন্নয়ন— একাধিক ক্ষেত্রে অপূর্ণতার তালিকা দীর্ঘদিন ধরেই জমে ছিল।

এই পরিস্থিতি বুঝেই কংগ্রেস এবার গনি পরিবারের বাইরে প্রার্থী দেয়। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতি বদলায়নি। বরং তৃণমূল সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজেদের জায়গা পোক্ত করে। ফলে সুজাপুরে এবার শুধু রাজনৈতিক দল নয়, প্রভাবশালী এক পরিবারের একচেটিয়া দখলেরও অবসান ঘটল।

 

 

 

 

Advertisement