• facebook
  • twitter
Monday, 27 April, 2026

‘বস্তিতে বস্তিতে কেউ গদ্দারের হয়ে টাকা পাঠাবে’, সতর্ক করলেন মমতা

ভবানীপুরে প্রচারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিস্ফোরক অভিযোগ, টাকা বিতরণ ও ইভিএম কারচুপির আশঙ্কা ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে।

দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরে জোরদার প্রচারে নেমে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি এবং শুভেন্দুর বিরুদ্ধে একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ করেন। রবিবার দিনভর পদযাত্রা ও একাধিক জনসভা থেকে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘বস্তিতে বস্তিতে কেউ গদ্দারের হয়ে টাকা পাঠাবে, খবর আছে আমার কাছে।’

দিনের শুরুতে ল্যান্সডাউন থেকে কালীঘাট দমকল অফিস পর্যন্ত পদযাত্রা করেন মমতা। এরপর ভবানীপুরের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক সভায় বক্তব্য রাখেন তিনি। মনসাতলা রোড ক্রসিংয়ের সভামঞ্চ থেকে তিনি অভিযোগ করেন, বাইরে থেকে লোক এনে এলাকায় অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে। তাঁর কথায়, ‘বাইরে থেকে কেউ এসে থাকবে। যারা বিহার, ওড়িশা থেকে আসছে ২৭ তারিখের পর আর থাকতে পারবে না। ভবানীপুরে একটা কালো স্করপিও করে ওড়িশা থেকে ৩০০ কোটি টাকা কাল এসেছে। এই সব করার জন্য সব (পুলিশ) চেঞ্জ করে দিয়েছে। জানি না কী নাকা তল্লাশি করে!’

Advertisement

এদিন নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকা পুলিশ প্রশাসনকেও একহাত নেন তৃণমূলনেত্রী। তিনি বলেন, ‘এখানকার পুলিশের কথা আর কী বলব। বিজেপি দেখে দেখে লোক নিয়ে এসেছে। কোনও পদক্ষেপ ওরা করে না। আমাদের দলের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করে। ৪ তারিখের পরে ওরা চলে যাবে। আপনারা থেকে যাবেন। আপনাদের আমরা মিষ্টি খাওয়াব। আপনাদের পরিবারকে দেখব। কেন বিজেপির হয়ে কাজ করবেন? আমি চাই, আপনারা তৃণমূলের হয়েও কাজ করুন। রাজ্যের মানুষের জন্য কাজ করুন। এটা আমার অনুরোধ।’ তাঁর অভিযোগ, ভোটের আগে বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে এবং বিরোধীদের সুবিধা করে দিচ্ছে।

Advertisement

ভোটারদের উদ্দেশে মমতার স্পষ্ট বার্তা—‘তৃণমূলের জোড়াফুল চিহ্ন ছাড়া কাউকে একটাও ভোট দেবেন না। এটা আপনাদের বাঁচা-মরার প্রশ্ন।’ একইসঙ্গে তিনি কর্মী-সমর্থকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘কারও প্ররোচনায় পা দেবেন না। ঠান্ডা মাথায় কাজ করতে হবে।’

ইভিএম নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করে মমতা বলেন, ‘আপনাদের এখানে (ইভিএম) মেশিন খারাপ করার চেষ্টা করবে। মনে রাখবেন, আপনারা যদি শোনেন ২০০০ ভোটের পর মেশিন খারাপ হয়ে গিয়েছে, তা হলে এসে আগের ভোট দিন। আমি আজ একটা ভিডিয়োয় দেখলাম, একটা দলে ভোট দিলে বিজেপির কাছে চলে যাচ্ছে। কোনও মেশিন খারাপ হয়ে গেলে তাতে ভোট দেবেন না।’ পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, কিছু জায়গায় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে কারচুপির চেষ্টা হতে পারে বলেও তাঁর কাছে খবর রয়েছে।

নারী ভোটারদের বিশেষ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে মমতা বলেন, ‘প্রয়োজনে ভোটের দিন এবং গণনার দিন পর্যন্ত মা-বোনেরা রান্না করবেন না, ভোট রক্ষা করবেন।’ তাঁর এই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সভা থেকে বিজেপিকে নিশানা করে তিনি বলেন, ‘প্রথম দফায় সেঞ্চুরি করেছি, দ্বিতীয় দফায় আবার করব। বিজেপি ভয় পেয়েছে। তাই কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে এসেছে। সব ওসি বদলেছে। গুন্ডামি করছে। নিজের ভোট নিজে দিন। ভোটার স্লিপ রেখে দিন, যাতে এনআরসি করতে না পারে।’ তাঁর দাবি, বিজেপি এই ফলাফল বুঝেই ভয় পেয়েছে। তাই কেন্দ্রীয় বাহিনী ও প্রশাসনিক শক্তি ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে।

ভবানীপুরের উন্নয়ন নিয়ে নিজের সরকারের কাজের খতিয়ানও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, স্বাস্থ্য পরিষেবা, সামাজিক সুরক্ষা এবং ব্যবসায়ীদের সুবিধার জন্য একাধিক প্রকল্প চালু করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ‘সস্তায় চিকিৎসা হয় এসএসকেএমে। আমরা কোনও কর বৃদ্ধি করিনি। কেন্দ্রীয় সরকার করে। জিএসটি কর ছিনিয়ে নেয়।’

এদিকে শনিবার ভবানীপুরের একটি সভায় মাইকিং নিয়ে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। সেই প্রসঙ্গ টেনে মমতা বলেন, ‘নির্বাচনের নিয়ম মেনে চলা উচিত। ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা সৃষ্টি করা ঠিক নয়।’  সব মিলিয়ে, দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে ভবানীপুরে মমতার এই ধারাবাহিক প্রচার এবং তীব্র ভাষণের ফলে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়ে গেল বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

Advertisement