২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোটপর্ব শেষ হতেই সামনে দ্বিতীয় দফার প্রস্তুতি। আগামী ২৯ এপ্রিল আবারও বুথমুখী হবেন সাধারণ মানুষ। তবে এই দহনজ্বালা গরমে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেওয়া যে সহজ নয়, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। চিকিৎসকদের মতে, এই সময় শরীরে জলের ঘাটতি, হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি এবং ক্লান্তি এড়াতে সবচেয়ে জরুরি হল শরীরকে ভেতর থেকে আর্দ্র রাখা। তাই শুধু সাধারণ জল নয়, দেশি ফলের তৈরি প্রাকৃতিক শরবতই হতে পারে বড় ভরসা।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ভোট দিতে যাওয়ার আগে বা ফিরে এসে কয়েকটি ঘরোয়া পানীয় শরীরকে রাখবে চাঙ্গা ও সতেজ। দেখে নেওয়া যাক এমনই তিনটি উপকারী শরবতের সহজ রেসিপি—
Advertisement
প্রথমেই বেলের শরবত। গরমে পেট ঠান্ডা রাখতে বেলের জুড়ি মেলা ভার। বেলের ল্যাক্সেটিভ গুণ শরীরের ক্লান্তি দূর করার পাশাপাশি হজমশক্তিও বাড়ায়। একটি পাকা বেলের শাঁস বের করে ঠান্ডা জলের সঙ্গে ভালো করে মিশিয়ে নিতে হবে। এরপর ছেঁকে নিয়ে তাতে বিট নুন, পাতিলেবুর রস ও মিছরির গুঁড়ো মিশিয়ে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে সতেজ বেলের শরবত। চাইলে বরফ কুচি দিয়ে পরিবেশন করা যায়।
Advertisement
এরপর রয়েছে তরমুজের শরবত। তরমুজে প্রায় সম্পূর্ণটাই জল থাকায় এটি শরীরের জলের ঘাটতি পূরণে অত্যন্ত কার্যকর। বীজবিহীন তরমুজের টুকরো, পুদিনা পাতা একসঙ্গে মিশিয়ে ভালো করে চটকে নিতে হবে। তারপর তাতে পাতিলেবুর রস, সামান্য বিট নুন ও গোলমরিচ গুঁড়ো মিশিয়ে পরিবেশন করলে এক নিমেষে মিলবে স্বস্তি। রোদ থেকে ফিরে এই শরবত শরীরকে দ্রুত ঠান্ডা করে দেয়।
সবশেষে আমপোড়া শরবত। গরমের দিনে লু-এর হাত থেকে বাঁচতে বহুদিন ধরেই এই পানীয় বাঙালির প্রিয়। কাঁচা আম পুড়িয়ে বা সেদ্ধ করে তার রস বের করে নিতে হবে। এরপর ঠান্ডা জল, বিট নুন, ভাজা জিরে গুঁড়ো, পুদিনা বাটা ও সামান্য চিনি মিশিয়ে ভালো করে নাড়লেই তৈরি আমপোড়া শরবত। এটি শরীরের লবণের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং ক্লান্তি দূর করে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, ভোট দিতে যাওয়ার আগে এই ধরনের পানীয় সঙ্গে রাখা যেতে পারে, অথবা বাড়ি ফিরে তা খেলে দ্রুত স্বস্তি পাওয়া যায়। পাশাপাশি রাস্তার কাটা ফল বা খোলা শরবত এড়িয়ে চলার পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে, যাতে অসুস্থতার ঝুঁকি না বাড়ে।
Advertisement



