বিধানসভা নির্বাচনের আগে উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় জোরকদমে প্রচারে নেমে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার প্রথমে স্বরূপনগরে সভা করার পর বসিরহাটে পৌঁছে বসিরহাট উত্তর কেন্দ্রের প্রার্থী মহম্মদ তৌসিফুর রহমানের সমর্থনে বিশাল জনসভা করেন তিনি। এই সভা থেকেই বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কটাক্ষ, ‘বিজেপি দু’মুখো সাপ, নির্বাচনের সময় এক রকম ছোবল দেয়, আর নির্বাচনের পর আর এক রকম।’ তিনি সরাসরি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, ‘যদি এই ছোবল থেকে বাঁচতে চান, তাহলে তৃণমূলকে ভোট দিন।’
মমতা তাঁর ভাষণে নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়েও গুরুতর আশঙ্কার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘কাউন্টিংয়ের দিন ইচ্ছাকৃতভাবে ধীর গতিতে গণনা করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হতে পারে। আগে বিজেপির আসনের ফল দেখিয়ে আমাদের এজেন্টদের মনোবল ভাঙার চেষ্টা করা হবে।’ এই পরিস্থিতিতে দলীয় কর্মীদের সতর্ক করে তিনি নির্দেশ দেন, ‘ফল সম্পূর্ণ ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত কেউ গণনাকেন্দ্র ছেড়ে বেরোবেন না।’
Advertisement
বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণ আরও তীব্র করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘ওরা বলে এক, করে আর এক। মিথ্যা কথার কারখানা তৈরি করেছে। মানুষের যন্ত্রণা বাড়াচ্ছে, বাংলাকে বঞ্চনার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।’ তাঁর অভিযোগ, ধর্মের নামে বিভাজনের রাজনীতি করছে বিজেপি। রাজ্যে এনআরসি প্রসঙ্গে সতর্ক করে মমতা বলেন, ‘বিজেপির পরিকল্পনা বাংলায় এনআরসি চালু করা। ডিলিমিটেশন করে রাজ্যকে ভাগ করে দেওয়া।’ পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, অন্য রাজ্যে বাংলা ভাষাভাষীদের হেনস্থা করা হচ্ছে।
Advertisement
ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ‘৯০ লক্ষ মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ গেছে।’ এই বিষয়ে ব্লক স্তরে সমীক্ষা চালিয়ে বিস্তারিত জানানো হবে বলে তিনি জানান। এছাড়াও ইভিএম নিয়ে সতর্ক থাকার বার্তা দেন তিনি। সাধারণ মানুষকে উদ্দেশ করে তাঁর আহ্বান, ‘গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে হলে সজাগ থাকতে হবে। ভোটের মাধ্যমেই জবাব দিতে হবে।’
শেষে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করে তিনি বলেন, ‘যদি অনুপ্রবেশ ঘটে, তার দায় কেন্দ্রকে নিতে হবে।’ তাঁর কথায়, ‘বাংলা অনুপ্রবেশকারীদের জায়গা নয়, এটি মানবিক মানুষের আশ্রয়স্থল।’ রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বসিরহাটের এই সভা থেকে মমতা স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন— সংগঠনকে শক্তিশালী রেখে ভোটের আগে সব ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে হবে। ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই রাজ্যের রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র হয়ে উঠছে।
Advertisement



