• facebook
  • twitter
Wednesday, 8 April, 2026

মনোনয়ন ঘিরে উত্তপ্ত রাজ্য, ‘জয় বাংলা’র পালটা ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান

বারুইপুর-উলুবেড়িয়া-কৃষ্ণনগরে টানটান পরিস্থিতি

তৃণমূল সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি।

মনোনয়ন পেশকে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল রাজ্যের একাধিক এলাকা। বারুইপুর, উলুবেড়িয়া ও কৃষ্ণনগরে বুধবার দিনভর উত্তেজনার ছবি সামনে আসে। কোথাও পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি, কোথাও বা রাজনৈতিক দলের কর্মীদের মধ্যে স্লোগান-পালটা স্লোগানে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তবে প্রশাসনের তৎপরতায় বড়সড় অশান্তি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

উলুবেড়িয়ার কামারশাল মোড় এলাকায় সবচেয়ে বেশি উত্তেজনা ছড়ায়। ওই এলাকায় পুরসভার কাছে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দেওয়াকে ঘিরে দফায় দফায় উত্তেজনা তৈরি হয়। জানা গিয়েছে, তৃণমূলের প্রার্থীরা যখন মনোনয়ন জমা দিয়ে ফিরছিলেন, ঠিক সেই সময় বিজেপির প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দিতে যাচ্ছিলেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ কয়লা মোড়ের কাছে বিজেপির মিছিল আটকে দেয়।

Advertisement

তৃণমূলের মিছিল সরে যাওয়ার পর বিজেপির মিছিলকে এগোনোর অনুমতি দেওয়া হলেও কিছু সময়ের মধ্যেই দুই পক্ষ কাছাকাছি চলে আসে। তখনই শুরু হয় স্লোগান যুদ্ধ। তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে থাকেন, পালটা ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান তোলে বিজেপি। এলাকা উত্তপ্ত হয়ে উঠলেও পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপে বড় সংঘর্ষ এড়ানো যায়। উল্লেখ্য, ঘটনাস্থলের খুব কাছেই রয়েছে মন্ত্রী পুলক রায়ের কার্যালয়।

Advertisement

অন্যদিকে, বারুইপুর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী বিভাস সর্দার মনোনয়ন জমা দিতে এলে এসডিও দপ্তরের সামনে পুলিশের সঙ্গে তৃণমূল কর্মীদের ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। কিছু সময়ের জন্য পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠলেও পরে তা নিয়ন্ত্রণে আসে।

কৃষ্ণনগরের গর্ভমেন্ট কলেজ মাঠ চত্বরেও বিজেপি প্রার্থীর মনোনয়ন পেশকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। তৃণমূল প্রার্থী সমীর পোদ্দার মনোনয়ন জমা দিতে গেলে তাঁর সমর্থকেরা আগে থেকেই মাঠে উপস্থিত ছিলেন। সেই সময় বিজেপি প্রার্থী সুকান্ত ঘোষ তাঁর কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে সেখানে পৌঁছন।

অভিযোগ, মাঠে বিজেপি কর্মীদের ঢুকতে বাধা দেয় পুলিশ। এই নিয়ে পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন বিজেপি সমর্থকরা। এক পর্যায়ে জোর করেই মাঠে প্রবেশ করেন তিনি। কিছু সময়ের জন্য দুই দলের কর্মীরা মুখোমুখি অবস্থানে থাকায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।

সমগ্র ঘটনাপ্রবাহে তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা করছে। অন্যদিকে প্রশাসনের দাবি, সব পক্ষকে নিয়ন্ত্রণে রেখে শান্তিপূর্ণভাবে মনোনয়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এই ধরনের ঘটনা সামনে আসায় ভোটের আগে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। তবে প্রশাসন পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে বলেই বড়সড় অশান্তি এড়ানো যাচ্ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

Advertisement