• facebook
  • twitter
Tuesday, 7 April, 2026

ট্রাইব্যুনাল প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার লক্ষ্যে হাই কোর্টের পদক্ষেপ, তিন সদস্যের কমিটি গঠন

ট্রাইবুনালের কাজের সমতা আনতে কলকাতা হাই কোর্ট তিন প্রাক্তন বিচারপতির কমিটি গঠন করেছে। ভোটার তালিকা বিতর্কের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

ট্রাইব্যুনালের বিবেচনাধীন প্রক্রিয়াকে ঘিরে দীর্ঘদিনের জটিলতা কাটাতে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিল কলকাতা হাই কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের নির্দেশে তিন প্রাক্তন বিচারপতির একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা ট্রাইব্যুনালের কাজের নির্দিষ্ট পদ্ধতি ঠিক করবে। এই পদক্ষেপকে ঘিরে আইনি মহলে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।

সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে জানিয়েছিল, রাজ্যের ১৯টি আপিল ট্রাইবুনালে একই ধরনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা প্রয়োজন। সেই অভিন্ন পদ্ধতি নির্ধারণ করতেই এই কমিটি তৈরি করা হয়েছে। হাই কোর্ট সূত্রে জানা গিয়েছে, কমিটিতে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রদীপ্ত রায় এবং অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রণবকুমার দেব।

Advertisement

এই কমিটির প্রধান কাজ হবে— ট্রাইব্যুনালের ১৯ জন বিচারপতি কীভাবে আবেদন শুনবেন এবং কীভাবে সিদ্ধান্ত নেবেন, সেই প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা। এর ফলে একই ধরনের মামলায় ভিন্ন ভিন্ন সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা কমবে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

Advertisement

এদিকে, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া ঘিরে ইতিমধ্যেই বড়সড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত তালিকায় দেখা যায়, ৬০ লক্ষেরও বেশি ভোটারের নাম বিবেচনাধীন অবস্থায় ছিল। পরে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের তত্ত্বাবধানে সেই তালিকার নিষ্পত্তির কাজ চলে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২৭ লক্ষের বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। অন্যদিকে, ৩২ লক্ষের বেশি ভোটারের নাম ফের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

এই বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়ার ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। অনেকেই মনে করছেন, ভোটাধিকার নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়া গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য শুভ সংকেত নয়। এই প্রেক্ষাপটে ট্রাইব্যুনালের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের জন্য ট্রাইব্যুনালে আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে। কিন্তু এত বিপুল সংখ্যক আবেদন দ্রুত এবং নিরপেক্ষভাবে নিষ্পত্তি করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সেই কারণেই ট্রাইব্যুনালের কাজের একটি সুস্পষ্ট ও অভিন্ন পদ্ধতি নির্ধারণ এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।

Advertisement