• facebook
  • twitter
Wednesday, 1 April, 2026

বিরোধীদের প্রবল আপত্তিতে পেশ হল না বিদেশি অনুদান সংশোধনী বিল

বুধবার এই বিলটি পেশ করার কথা থাকলেও বিরোধী দলগুলির তীব্র আপত্তির জেরে সরকার পিছিয়ে যায়

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

প্রবল বিরোধিতার মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত লোকসভায় পেশই করা হল না কেন্দ্রের প্রস্তাবিত বিদেশী অনুদান সংশোধনী বিল ২০২৬। বুধবার এই বিলটি পেশ করার কথা থাকলেও বিরোধী দলগুলির তীব্র আপত্তির জেরে সরকার পিছিয়ে যায়। ফলে এদিন লোকসভার অধিবেশন দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

প্রস্তাবিত এই সংশোধনী বিল নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক চলছিল। বিলের খসড়া প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই একাধিক ধারার বিরুদ্ধে সরব হয় বিরোধীরা। তাদের অভিযোগ, এই আইন ‘সংখ্যালঘু বিরোধী’ এবং এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে লক্ষ্য করা হচ্ছে।

Advertisement

বিলের অন্যতম বিতর্কিত প্রস্তাব হল— কোনও সংস্থা যদি বিদেশি অনুদান পাওয়া বন্ধ করে দেয়, তাহলে সেই সংস্থার বিদেশি অর্থে গড়ে ওঠা সম্পত্তি আর ব্যবহার করতে পারবে না। সেই সম্পত্তি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কেন্দ্রের অধীনে চলে যেতে পারে। এই ধারাটিকেই সবচেয়ে বেশি সমালোচনা করা হচ্ছে।

Advertisement

এছাড়াও, প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, কেন্দ্র সরকার চাইলে বিদেশি অনুদানের টাকা খরচ করার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিতে পারবে। শুধু তাই নয়, কোনও সংস্থা যদি তাদের লাইসেন্স নবীকরণের জন্য আবেদন না করে বা আবেদন খারিজ হয়ে যায়, তাহলে সেই সংস্থার সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে।

বর্তমানে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলিকে বিদেশি অনুদান নিতে হলে বিদেশী অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১০-এর আওতায় নিবন্ধন করতে হয়। প্রতি বছর এই লাইসেন্স নবীকরণ ও যাচাই করা হয়। নতুন বিল কার্যকর হলে, লাইসেন্স বাতিল হলে আগে পাওয়া অনুদানের সম্পত্তিও সরকারের অধীনে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

এই বিষয়েই আপত্তি তুলেছে জাতীয় কংগ্রেস এবং ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সিস্ট)। তাদের দাবি, এই আইন মূলত খ্রিস্টান ও মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত বহু স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে টার্গেট করছে। কারণ এই সংস্থাগুলির বড় অংশই বিদেশি অনুদানের উপর নির্ভরশীল। বিরোধীদের মতে, এই বিলের মাধ্যমে সেই অনুদান বন্ধ করে সংস্থাগুলিকে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে কেন্দ্র।

তবে কেন্দ্র সরকারের বক্তব্য একেবারেই আলাদা। তাদের দাবি, বিরোধীরা এই বিষয়টি নিয়ে ভুয়ো তথ্য ছড়াচ্ছে। সরকারের মতে, বিদেশি অনুদানের একটি অংশ অবৈধভাবে এমন এলাকায় পৌঁছাচ্ছে, যেখানে মাওবাদী কার্যকলাপ সক্রিয়। এর ফলে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপে উৎসাহ পাচ্ছে উগ্রপন্থীরা।

এছাড়াও, কেন্দ্রের অভিযোগ, বিদেশি অনুদানের একটি অংশ ধর্মান্তকরণের কাজেও ব্যবহার করা হচ্ছে, যা নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। তাই এই সংশোধনী বিল আনা হয়েছে বলে সরকারের দাবি।

সব মিলিয়ে, এই বিলকে ঘিরে রাজনৈতিক সংঘাত তীব্র আকার নিয়েছে। বিরোধীদের চাপের মুখে আপাতত বিলটি পেশ করা না হলেও, আগামী দিনে এটি নিয়ে আরও বড় রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Advertisement