আগামী ২০২৮ অলিম্পিকের আগে বিরাট ঘোষণা করল আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি। তাদের পক্ষ থেকে জানানো হল, আসন্ন লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক থেকে মহিলা বিভাগে লড়তে পারবেন না রূপান্তরকামী অ্যাথলিটরা। অর্থ্যাৎ, যারা জন্মসূত্রে নারী নন, তাঁরা আর মহিলা বিভাগে প্রতিযোগী হিসেবে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। বিষয়টি নিশ্চিন্ত করতে জিন পরীক্ষা করা হবে। যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘এসআরওয়াই জিন টেস্ট’। এর মাধ্যমে অ্যাথলিটদের লিঙ্গ পরিবর্তন হয়েছে কি না, তা নির্ণয় করা সম্ভব। জানানো হয়েছে, প্রত্যেক মহিলা অ্যাথলিটকে কেরিয়ারের কোনও না কোনও পর্যায়ে অন্তত একবার এই পরীক্ষা দিতে হবে। ফলে, রূপান্তরকামীরা আর মহিলা বিভাগে খেলতে নামার সুযোগ আর কোনোভাবেই পাবে না। এরফলে মহিলা বিভাগে লড়াইয়ে সাম্য আসবে বলে মনে করছেন আইওসি প্রধান ক্রিস্টি কভেন্ট্রি। তিনি বলেন, অলিম্পিকে সামান্য ব্যবধানে পদকের রং বদলে যায়। তাই অলিম্পিক কমিটি মনে করে, জন্মসূত্রে পুরুষ অ্যাথলিটদের কোনওভাবেই মহিলা বিভাগে খেলা উচিত নয়। যদিও, বহুমূল্য এই টেস্টের খরচ কে বহন করবে তা স্পষ্টভাবে জানাননি ক্রিস্টি।
এই প্রসঙ্গে বলা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই ক্রীড়াক্ষেত্রে মহিলা বিভাগকে ‘বায়োলজিক্যাল ফিমেলদের’ জন্য নির্দিষ্ট করার দাবি উঠছে। সেই দাবি আরও জোরাল হয় প্যারিস অলিম্পিকে আলজিরিয়ার বক্সার ইমানে খেলিফির কাছে ইতালির অ্যাঞ্জেলা কারিনির হারের পর। বক্সিং রিং ছেড়ে যাওয়ার সময় কারিনি অভিযোগ করেন, খেলিফি আদতে পুরুষ। এমনকী তার আগের বছর শারীরিক পরীক্ষায় ‘ফেল’ করা আলজিরিয়ান বক্সারকে নির্বাসিতও করেছিল আন্তর্জাতিক বক্সিং সংস্থা। কিন্তু, সেসময় আইবিএ’র উপর নিষেধাজ্ঞা ছিল আইওসি’র। ফলে, অলিম্পিক কর্তৃপক্ষ সেই নির্বাসন উপেক্ষা করেই খেলিফিকে প্যারিস অলিম্পিকে খেলার ছাড়পত্র দেয়। সেই অলিম্পিকে চিনের লিন ইউটিংয়ের লিঙ্গ পরিচয় নিয়েও একই রকমের বিতর্ক হয়। এরপর সম্প্রতি মহিলা বিভাগকে শুধুমাত্র ‘বায়োলজিক্যাল ফিমেল’ অ্যাথলিটদের জন্য বলে জানিয়ে দেয় ‘ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিক্স’। ফলে, সবদিক বিবেচনা করে একপ্রকার বাধ্য হয়েই আইওসিও এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
Advertisement
Advertisement
Advertisement



