রান্নার গ্যাস সরবরাহে চাপ বাড়তেই বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র। কেন্দ্রের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, যে সমস্ত জায়গায় নলবাহিত গ্যাস বা পিএনজি-র সুবিধা রয়েছে, সেখানে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেই সংযোগ না নিলে তিন মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট পরিবারের এলপিজি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হবে। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক ‘ন্যাচারাল গ্যাস অ্যান্ড পেট্রোলিয়াম প্রোডাক্টস ডিস্ট্রিবিউশন অর্ডার, ২০২৬’ জারি করে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।
এই নির্দেশিকা জারি হয়েছে এসেনশিয়াল কমোডিটিস অ্যাক্ট বা অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইনের আওতায়। মূল লক্ষ্য, দ্রুত পিএনজি পরিকাঠামো বিস্তার করা এবং এলপিজি-র উপর নির্ভরতা কমানো।সরকারি হিসেব অনুযায়ী, দেশের মোট এলপিজি চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ আমদানির উপর নির্ভরশীল। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ঘিরে অস্থিরতার কারণে সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিকল্প হিসেবে পিএনজি ব্যবহারে জোর দিচ্ছে কেন্দ্র।
Advertisement
পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের বিশেষ সচিব সুজাতা শর্মা পিএনজি-র গ্রাহক হওয়ার জন্য একাধিক বার অনুরোধ করেছেন। কিন্তু দেশের বিস্তীর্ণ অংশে এলপিজি-ই ব্যবহার করা হয়। পিএনজি এখনও সে ভাবে সব জায়গায় প্রচলিত নয়। নতুন নিয়মে বলা হয়েছে, যেসব এলাকায় পাইপলাইন সংযোগ ইতিমধ্যেই রয়েছে, সেই সমস্ত অঞ্চলে গৃহস্থালি ও বাণিজ্যিক, দুই ক্ষেত্রেই পিএনজি গ্রহণে উৎসাহ দেওয়া হবে। নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, তিন মাসের মধ্যে পিএনজি সংযোগ না নিলে সংশ্লিষ্ট পরিবারের এলপিজি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হবে।
Advertisement
তবে এই নিয়মে কিছু ব্যতিক্রমও রাখা হয়েছে। যদি কোনও অনুমোদিত সংস্থা জানায় যে প্রযুক্তিগত কারণে কোনও এলাকায় পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস পৌঁছনো সম্ভব নয়, তাহলে সেই ক্ষেত্রে এলপিজি সরবরাহ চালু থাকবে। সেক্ষেত্রে ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ থাকলে এলপিজি সরবরাহ চালু থাকবে।সরকারের দাবি, পিএনজি তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক—সরাসরি পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস পৌঁছনোয় বুকিংয়ের ঝামেলা নেই এবং সরবরাহও নিয়মিত। ফলে সঙ্কটের সময় জ্বালানির চাপ কমানো সম্ভব।
কেন্দ্রের তরফে আরও বলা হয়েছে, এই নির্দেশ দ্রুত বাস্তবায়িত করতে হবে। গৃহস্থালির ক্ষেত্রে তিন দিনের মধ্যে অনুমোদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনও আবেদন বাতিল করা যাবে না। অনুমোদন দেওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পরিষেবা চালু করতে হবে। অনুমোদিত সংস্থাগুলিকে চার মাসের মধ্যে পাইপলাইন বসানোর কাজ শুরু করতে হবে, না হলে শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এলপিজি সঙ্কট সামাল দিতে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতেই এই পদক্ষেপ। একই সঙ্গে দেশে গ্যাস ব্যবহারের ধরনে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিতও দিচ্ছে কেন্দ্রের এই নীতি।
Advertisement



