• facebook
  • twitter
Sunday, 22 March, 2026

ইচ্ছার বিরুদ্ধে পদোন্নতি করা যাবে না পর্যবেক্ষণ তেলেঙ্গানা হাইকোর্টে

কোনও সরকারি কর্মচারীকে তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে পদোন্নতি গ্রহণে বাধ্য করা যায় না

তেলেঙ্গানা হাইকোর্টের এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে বলা হয়েছে, কোনও সরকারি কর্মচারীকে তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে পদোন্নতি গ্রহণে বাধ্য করা যায় না। এই রায়ে আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, ‘জনস্বার্থ’-র যুক্তি দেখিয়েও কর্মচারীর ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দকে অগ্রাহ্য করা চলবে না। একই সঙ্গে আদালত আগের একটি রায় বাতিল করেছে, যেখানে জনস্বার্থের কথা উল্লেখ করে এক সিনিয়র অধ্যাপককে পদোন্নতি নিতে বাধ্য করা হয়েছিল।

এই মামলার সূত্রপাত ড. কে রবিশেখর রাওয়ের আবেদনের মাধ্যমে। তিনি সেকেন্দ্রাবাদের গান্ধী মেডিক্যাল কলেজের অপথ্যালমোলজি বিভাগের সিনিয়র অধ্যাপক ছিলেন। ২০২৫ সালের ৭ জুলাই রাজ্য সরকার তাঁকে মাহাবুবাবাদের একটি সরকারি মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ পদে পদোন্নতির নির্দেশ দেয়। তবে ড. রাও সেই পদোন্নতি গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন।

Advertisement

তাঁর বক্তব্য ছিল, বর্তমান প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা ও দায়িত্ব পালনের সঙ্গে তাঁর গভীর সংযোগ রয়েছে। পাশাপাশি তাঁর ৮৬ বছর বয়সী মায়ের শারীরিক অবস্থাও ভালো নয়, ফলে স্থানান্তর হওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। এই পরিস্থিতিতে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন। যদিও প্রথমে একক বিচারপতির বেঞ্চ তাঁর আবেদন খারিজ করে দেয়।

Advertisement

পরবর্তীতে তিনি পুনরায় আবেদন জানান। সেই আবেদনের ভিত্তিতে প্রধান বিচারপতি অপরেশ কুমার সিং এবং বিচারপতি জি এম মহিউদ্দিনের ডিভিশন বেঞ্চ মামলাটি পুনর্বিবেচনা করে। আদালত তেলেঙ্গানা স্টেট অ্যান্ড সাব-অর্ডিনেট সার্ভিস রুলস, ১৯৯৬-এর ১১ (খ) ধারা উল্লেখ করে জানায়, পদোন্নতি গ্রহণ করা সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।

রায়ে আরও বলা হয়, কোনও কর্মচারী চাইলে পদোন্নতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার অধিকার রাখেন। এই অধিকার কেড়ে নেওয়া বা জনস্বার্থের অজুহাতে তা উপেক্ষা করা সংবিধানসম্মত নয়। ফলে আদালত ড. রাওয়ের পক্ষেই রায় দেয় এবং আগের নির্দেশ বাতিল করে।

 

Advertisement