তামিলনাড়ুতে মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে রাজ্যের শাসক দলকে তীব্র আক্রমণ করলেন অভিনেত্রী ও সমাজকর্মী গৌতমী। মহিলাদের দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্টালিনের নেতৃত্বে রাজ্যে মহিলারা নিজেদের নিরাপদ মনে করছেন না।
কোয়েম্বাটুরে অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল বিরোধী রাজনৈতিক দল সর্বভারতীয় অন্না দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাজগম। সেখানে উপস্থিত কর্মী ও সমর্থকদের সামনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে গৌতমী বলেন, প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী জে জয়ললিতার শাসনকালে মহিলাদের কল্যাণ ও ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে এক ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি দেখা গিয়েছিল।
Advertisement
তার কথায়, জয়ললিতা জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত মহিলাদের উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে কাজ করেছেন। মহিলাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতির জন্য তিনি একাধিক প্রকল্প চালু করেছিলেন। কিন্তু বর্তমান সরকার মহিলাদের মূলত ভোটের হিসেবেই দেখছে বলে অভিযোগ তোলেন গৌতমী।
Advertisement
তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমান প্রশাসন মহিলাদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক নীতিতে সেই সংবেদনশীলতা ও দায়বদ্ধতার অভাব রয়েছে, যা মহিলারা সরকারের কাছ থেকে প্রত্যাশা করেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এই প্রসঙ্গে দলের সাধারণ সম্পাদক ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এডাপ্পাড়ি কে পালানিস্বামীর ভূয়সী প্রশংসা করেন গৌতমী। তার বক্তব্য, প্রায় আঠাশ মাস ধরে তিনি তামিলনাড়ুতে মহিলাদের অধিকার রক্ষার জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে চালু হওয়া একাধিক কল্যাণমূলক প্রকল্প বর্তমান প্রশাসনের আমলে শিথিল হয়ে পড়েছে বা বিলম্বিত হয়েছে। জয়ললিতার সময় চালু হওয়া শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার বিতরণ প্রকল্পের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তার অভিযোগ, বর্তমান সরকার মেয়াদের শেষের দিকে এসে সেই প্রকল্প আবার শুরু করেছে, যা মূলত ভোটের কথা মাথায় রেখেই করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথোপকথনের সময় গৌতমী তামিলনাড়ুর একটি সাম্প্রতিক নৃশংস ঘটনার প্রসঙ্গও তোলেন। ওই ঘটনায় এক তরুণীর ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এই বিষয়ে এক সাংসদের মন্তব্যকে তিনি অসংবেদনশীল বলে সমালোচনা করেন।
তার প্রশ্ন, কেন রাজনৈতিক নেতারা এখনও পর্যন্ত ওই এলাকায় গিয়ে নিহত তরুণীর পরিবারের পাশে দাঁড়াননি। অন্য ঘটনার ক্ষেত্রে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও এই ঘটনায় কেন ততটা গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
এছাড়া রাজ্যে মাদক ছড়িয়ে পড়ার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন গৌতমী। তার দাবি, এই সমস্যা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে বর্তমান এবং আগামী প্রজন্ম মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
আগামী বিধানসভা নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মূল লড়াই হবে দুই প্রধান রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে। অন্য রাজনৈতিক দলগুলির ভূমিকা তুলনামূলকভাবে সীমিত থাকবে বলেও তিনি মনে করেন।
Advertisement



