• facebook
  • twitter
Monday, 16 March, 2026

সাত দফা থেকে দু’দফা ভোট, কার সুবিধা? কী বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক শুভময় মৈত্র

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মাত্র দুই দফায় ভোট নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় নির্বাচন কমিশন

আগের কয়েকটি নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘ সাত বা আট দফায় ভোটগ্রহণের নজির ছিল। কিন্তু ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মাত্র দুই দফায় ভোট নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় নির্বাচন কমিশন। এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। কম দফায় ভোট হলে সুবিধা কার? ভোটের প্রধান ইস্যুই বা কী হতে পারে? এই সব প্রশ্ন নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক শুভময় মৈত্র জানান
প্রশ্ন: আগের মতো সাত বা আট দফার বদলে এবার মাত্র দুই দফায় ভোট হচ্ছে। এই সিদ্ধান্তকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
উত্তর: পশ্চিমবঙ্গে ভোটের সময় হিংসার ইতিহাস রয়েছে। সেই কারণেই সাধারণত আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে একাধিক দফায় ভোট করা হয়, যাতে প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীকে ধাপে ধাপে মোতায়েন করা যায়। তবে দফা বাড়ালেই সব সমস্যা মিটে যাবে, এমনটা নয়। আবার দফা কমালেও সব সমস্যার সমাধান হয় না। শেষ পর্যন্ত গণতান্ত্রিক চেতনা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিকাশই গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশ্ন: কম দফায় ভোট হলে কি কোনও বিশেষ রাজনৈতিক দলের সুবিধা হতে পারে?
উওর: কম দফায় ভোট হলে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াই দ্রুত শেষ হয়। এতে প্রচারের সময় কম থাকে। যেসব দলের সংগঠন শক্তিশালী এবং মাঠপর্যায়ে কর্মীসংখ্যা বেশি, তারা কিছুটা সুবিধা পেতে পারে। তবে ভোটের ফল অনেক কিছুর উপর নির্ভর করে, তাই আগাম নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন।
প্রশ্ন: এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় ইস্যু কী হতে পারে বলে মনে করেন?
উত্তর: চাকরি, শিল্প, শিক্ষা ও দুর্নীতি—এই বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হতে পারে। পাশাপাশি ধর্ম বা পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতির বিষয়ও আলোচনায় আসতে পারে।
প্রশ্ন: তৃণমূল না বিজেপি এইবারে ভোটে কাকে এগিয়ে রাখবেন?
উত্তর: ২০২৬ সালের নির্বাচনে এখনই কার পাল্লা ভারী তা নির্দিষ্ট করে বলা খুব কঠিন।  নির্বাচনের ফল একাধিক ইস্যুর উপর নির্ভর করবে— যেমন ধর্ম ও পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতি, দুর্নীতির অভিযোগ, চাকরি ও শিল্পের পরিস্থিতি।
প্রশ্ন: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে জেন জি বা তরুণ ভোটাররা কতটা প্রভাব ফেলতে পারে বলে আপনি মনে করেন?
উত্তর: তরুণ ভোটারদের কাছে চাকরি ও ভবিষ্যতের সুযোগ এই মুহূর্তে অগ্রাধিকার পাচ্ছে। তবে সংখ্যার হিসেবে তারা একাই নির্বাচনের ফল নির্ধারণ করবে, এমনটা বলা কঠিন। কিন্তু রাজনৈতিক আলোচনা ও প্রচারে তাদের প্রভাব অবশ্যই থাকে।
প্রশ্ন: মহিলা ভোটারদের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
উওর : মহিলা ভোটারদের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্প, বিশেষ করে সরাসরি আর্থিক সহায়তার প্রকল্প, তাদের ভোটের সিদ্ধান্তে কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এখন প্রায় সব রাজনৈতিক দলই বিভিন্ন ধরনের ভাতার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। ফলে এর প্রভাব কতটা হবে, তা ভোটেই বোঝা যাবে।
প্রশ্ন: গ্রাম ও শহরের ভোটে কি আলাদা প্রবণতা দেখা যেতে পারে?
উত্তর: আগে গ্রাম ও শহরের ভোটে স্পষ্ট পার্থক্য দেখা যেত। এখন সেই পার্থক্য অনেকটাই কমে এসেছে। তবে অঞ্চলভেদে রাজনৈতিক প্রবণতা আলাদা হতে পারে।
প্রশ্ন: কংগ্রেস ও সিপিআইএমের ফলাফল নিয়ে কী মনে হয়?
উত্তর: কিছু জেলায় কংগ্রেসের শক্তি রয়েছে, আবার কিছু এলাকায় বামেদেরও নির্দিষ্ট ভোট রয়েছে। তবে কতটা আসনে তার প্রভাব পড়বে, তা আগে থেকে বলা কঠিন। কংগ্রেস কয়েকটি সিট পেলেও পেতে পারে তবে বামেদের ক্ষেত্রে বলা কঠিন ।
প্রশ্ন: সীমান্তবর্তী এলাকায় নির্বাচন পরিচালনা কতটা চ্যালেঞ্জের?
উত্তর: সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা ও সামাজিক পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই সেখানে নির্বাচন পরিচালনা করা সবসময়ই একটু বেশি চ্যালেঞ্জের। পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে জামাতের জয়জয়কার আরো বড় প্রশ্নের মধ্যে আমাদের ঠেলে দিচ্ছে।
প্রশ্ন: শেষ পর্যন্ত কোন বিষয়টি নির্বাচনের ফলাফলে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলতে পারে?
উত্তর: নির্বাচন অনেকগুলো বিষয়ের উপর নির্ভর করে। চাকরি, অর্থনীতি, দুর্নীতি বা সামাজিক প্রকল্প—সব মিলিয়েই ভোটাররা সিদ্ধান্ত নেন। ভোটের ফল বেরোলেই যে বোঝা যাবে কোন বিষয়টি বেশি প্রভাব ফেলেছে এমনটা নয়

Advertisement

Advertisement