• facebook
  • twitter
Monday, 16 March, 2026

লাল-হলুদ শিবিরে সাফল্যের খরায় কোচকে দায়ী করে নাটক শুরু

আইএসএল ফুটবলে ইস্টবেঙ্গলের অবস্থান খুবই খারাপ। পাঁচটি খেলার মধ্যে দুটো ম্যাচ জেতার পর পয়েন্ট হারানোর হ্যাটট্রিক করে ফেলেছে লাল-হলুদ শিবির।

রণজিৎ দাস

ভারতের ফুটবল মানচিত্রে ইস্টবেঙ্গল ক্লাব একটি আবেগের নাম। কিন্তু গত ২০ বছরের পরিসংখ্যান বলছে, সেই আবেগ এখন কেবল ঐতিহ্যে টিকে আছে, ট্রফিতে নয়। বিশেষ করে সর্বভারতীয় লিগের ক্ষেত্রে ইস্টবেঙ্গলের পারফরম্যান্স রীতিমতো হতাশাজনক। পরিসংখ্যানের করুণ চিত্রে দেখা যাচ্ছে, জাতীয় লিগে ১৯৯৬ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত চলা ১১ বছরে দল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে মাত্র ৩ বার (২০০০-০১, ২০০২-০৩, ২০০৩-০৪)। আই-লিগ ফুটবলে ২০০৭ থেকে ২০২০ পর্যন্ত দীর্ঘ ১৩ বছরে একবারও ট্রফি আসেনি লেসলি ক্লডিয়াস সরণিতে। আইএসএল ফুটবল খেলায় ২০২০ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত গত ৫ বছরে দলের পারফরম্যান্স তথৈবচ। লিগ টেবিলের নিচের সারিতে থাকাই যেন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের এমন ব্যর্থতায় কোচ বদলের মিউজিক্যাল চেয়ার চলছে।

Advertisement

বিগত ২০ বছরে প্রায় ১৬ জন কোচ পরিবর্তন করা হয়েছে। অথচ সাফল্যের দেখা নেই। ট্রফির স্বাদ এনে দেওয়া কোচ থেকে শুরু করে হাই-প্রোফাইল বিদেশি কোচ—কেউই টিকতে পারেননি। আর্মান্দো কোলাসো ও খালিদ জামিল আই-লিগ জয়ী সফল কোচ হয়েও তাঁদের ব্যর্থতার দায় নিয়ে বিদায় নিতে হয়েছে। ট্রেভর মর্গ্যান ও আলেজান্দ্রো মেনেন্দেজরা সমর্থকদের প্রিয়পাত্র হয়েও প্রশাসনিক চাপে বা ব্যর্থতার দায়ে তাঁরা সরতে বাধ্য হয়েছেন। স্টিফেন কনস্ট্যান্টাইন জাতীয় দলের প্রাক্তন কোচ ছিলেন। এমন কোচের মগজাস্ত্রও ব্যর্থ হয়েছে এই ক্লাবে এসে। সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, যে সময় ইস্টবেঙ্গল সর্বভারতীয় স্তরে ব্যর্থ হচ্ছে, ঠিক সেই সময়েই তারা ১৮ বার কলকাতা লিগ জিতেছে। প্রশ্ন উঠছে, যদি স্থানীয় লিগে দল এত শক্তিশালী হয়, তবে আই-লিগ বা আইএসএল-এ গিয়ে কেন খেই হারিয়ে ফেলছে? ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থানীয় লিগের মান এবং সর্বভারতীয় লিগের পেশাদারিত্ব ও তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্যে যে ব্যবধান রয়েছে, তা কাটাতে ব্যর্থ হয়েছে ক্লাব ম্যানেজমেন্ট।

Advertisement

এখন সাধারণ সমর্থকদের মনের কথা— “কোচ বদলায়, কিন্তু কর্মকর্তারা মানসিকতা কেন বদলায় না?” বর্তমানে ক্লাব কর্পোরেট কাঠামোর আওতায় এলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে পুরনো মানসিকতা রয়ে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে। বারবার বিনিয়োগকারী পরিবর্তন এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইনভেস্টরদের দড়ি টানাটানি দলের মাঠের পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ব্যর্থতার দায় নিয়ে কোচদের পদত্যাগ করতে হলেও, প্রশাসনিক পদে রদবদল বা নতুন রক্ত সঞ্চালনের অভাব স্পষ্ট। ইস্টবেঙ্গল এই মুহূর্তে এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে।

সমর্থকদের দাবি— যোগ্যতা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে নতুনদের হাতে ক্লাবের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হোক। কোচ পরিবর্তনের বদলে এখন তারা সিস্টেম পরিবর্তনের চাইছেন। শতবর্ষ প্রাচীন ক্লাবের গরিমায় এমন ব্যর্থতায় সমর্থকরা হতাশ হচ্ছেন।

এবারের আইএসএল ফুটবলে ইস্টবেঙ্গলের অবস্থান খুবই খারাপ। পাঁচটি খেলার মধ্যে দুটো ম্যাচ জেতার পর পয়েন্ট হারানোর হ্যাটট্রিক করে ফেলেছে লাল-হলুদ শিবির। পয়েন্ট হারানোর পর ক্লাব কর্মকর্তারা সব দোষ কোচ অস্কার ব্রুজোর ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে হাত মুছে ফেলেছেন। তাই সেই পুরনো নাটক শুরু হয়ে গেল ইস্টবেঙ্গলে। কোচ পরিবর্তনে খলনায়ক হিসাবে কোচ অস্কার ব্রুজোকে দেখিয়ে বিদায় ঘন্টা বাজানোর অপেক্ষায়।

Advertisement