• facebook
  • twitter
Saturday, 14 March, 2026

ব্রিগেড থেকেই ‘নতুন বাংলার ডাক’, তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ মোদীর

কলকাতার ব্রিগেড সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ করলেন। জঙ্গল রাজ, কাটমানি, বেকারত্ব এবং উন্নয়ন নিয়ে একাধিক অভিযোগ তুললেন তিনি।

নিজস্ব চিত্র

কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড ময়দান থেকে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। জনসমাবেশে দাঁড়িয়ে তিনি দাবি করেন, ‘আজ ব্রিগেডের জনসমুদ্রই বলে দিচ্ছে বাংলা কী ভাবছে। নতুন বাংলার ঘোষণা আজ এখান থেকেই হচ্ছে।’ তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে দুর্নীতি, কাটমানি, বেকারত্ব এবং আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলায় এখন ‘জঙ্গল রাজ’ চলছে। মানুষের মনে পরিবর্তনের দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। তাঁর কথায়, ‘আজ বাংলার প্রতিটি প্রান্ত থেকে একটাই আওয়াজ উঠছে— বাংলায় বিজেপি সরকার চাই।’ সমাবেশে উপস্থিত জনতার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘গতকাল তৃণমূলের সমর্থকেরা আপনাদের চোর বলেছে। কিন্তু বাংলার মানুষ জানে আসল চোর কারা।’

Advertisement

এদিন বিজেপি নেতা, কর্মী, সমর্থকদের ব্রিগেডের সভায় পৌঁছনোর পথে বাধা দেওয়ার অভিযোগও তোলেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, সমাবেশে আসা মানুষকে আটকাতে নানা রকম চেষ্টা করা হয়েছে। কোথাও যানজট তৈরি করা হয়েছে, কোথাও পোস্টার টাঙানো হয়েছে, এমনকি ভয় দেখানোরও চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু এসব সত্ত্বেও মানুষের ঢল থামানো যায়নি বলেই মন্তব্য করেন তিনি।

Advertisement

মোদীর কথায়, ‘সেই দিন আর দূরে নেই যখন বাংলায় জঙ্গল রাজ শেষ হবে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা পাবে। যারা আইন মানবে না, তাদের জেলের পিছনে যেতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘দেশের উন্নয়নের শক্তি আজ মা মহিষাসুরমর্দিনীর আশীর্বাদে এগিয়ে চলেছে। সেই শক্তি বাংলার উন্নয়নেও কাজ করবে।’

প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, কেন্দ্রীয় সরকার বাংলার উন্নয়নের জন্য ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। যদিও রাজ্যে তাদের সরকার নেই, তবুও নানা প্রকল্পের মাধ্যমে উন্নয়ন এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে। তিনি জানান, শনিবার প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। কয়েক দিন আগেই মন্ত্রিসভা বাংলার মানুষের সুবিধার জন্য একাধিক রেলপথ সম্প্রসারণ প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে বলেও জানান তিনি।

বাংলার অতীত গৌরবের কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, এক সময় শিল্প, শিক্ষা ও চিন্তাভাবনায় বাংলা গোটা দেশকে পথ দেখাত। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলে গিয়েছে। যুবকদের কাজের সুযোগ কমে গিয়েছে। অনেকেই অন্য রাজ্যে পাড়ি দিতে বাধ্য হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘বাংলার যুবকদের নিজের মাটিতেই কাজের সুযোগ তৈরি করা আমাদের দায়িত্ব’।

তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে কাটমানির অভিযোগ তুলে মোদী বলেন, ‘কাজ করতে গেলেই কাটমানি দিতে হয়। তৃণমূলের অনুমতি ছাড়া কোনও প্রকল্প এগোয় না। কেন্দ্রের টাকা এলেও তা মানুষের কাছে পৌঁছতে দেওয়া হয় না।’ রাজ্যের জনসংখ্যার গঠনে পরিবর্তন আনার ষড়যন্ত্র চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, বাংলার হিন্দু সমাজকে সংখ্যালঘু করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূল ভয় দেখানো এবং হুমকিকে রাজনীতির অংশ করে তুলেছে।

প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন, ‘যাঁরা তৃণমূলকে ভোট দেন না, তাঁদের বাঙালি নয় বলে অপমান করা হচ্ছে।’ নির্বাচন পরিচালনাকারী সংস্থাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন মোদী। তিনি বলেন, ‘যে সংস্থা নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন পরিচালনা করে, তার সিদ্ধান্তকেও এখানে প্রশ্ন করা হচ্ছে।’ তাঁর দাবি, সংসদেও একই ধরনের আচরণ দেখা যাচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর প্রসঙ্গ টেনেও রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করেন মোদী। তিনি বলেন, কয়েক দিন আগে রাষ্ট্রপতি সাঁওতাল সমাজের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বাংলায় এসেছিলেন। কিন্তু রাজ্য সরকারের তরফে যথাযথ সম্মান দেওয়া হয়নি। তাঁর কথায়, ‘এটি শুধু রাষ্ট্রপতির অপমান নয়, দেশের আদিবাসী সমাজ এবং নারী সমাজেরও অপমান।’

সমাবেশের শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলার মানুষ এখন পরিবর্তনের অপেক্ষায় রয়েছে। তিনি বলেন, ‘পুরো বাংলায় এখন পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। খুব শিগগিরই সেই পরিবর্তন বাস্তবে দেখা যাবে।’

Advertisement