• facebook
  • twitter
Saturday, 7 March, 2026

শিলিগুড়িতে রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠান ঘিরে বিতর্ক, মঞ্চ থেকেই রাজ্যকে প্রশ্ন মুর্মুর

গোঁসাইপুরের সভামঞ্চ থেকেই রাষ্ট্রপতি এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন

উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়িতে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর একটি অনুষ্ঠান ঘিরে শনিবার তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। আদিবাসী সম্প্রদায়ের বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দিতে এদিন শিলিগুড়িতে আসেন তিনি। মূলত বিধাননগরে এই সভা হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে অনুষ্ঠানস্থল বদলে বাগডোগরা বিমানবন্দরের কাছে গোঁসাইপুরে সভা হয়। সেখানে পৌঁছে দর্শকের অতি কম উপস্থিতি দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি।

প্রতি বছর আদিবাসী সম্প্রদায়ের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দেশের রাষ্ট্রপতি বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত থাকেন। এ বছরও সেই সূত্রেই দ্রৌপদী মুর্মুর শিলিগুড়িতে আসার কথা ছিল। প্রথমে সভার স্থান হিসেবে নির্ধারিত হয়েছিল বিধাননগর। কিন্তু রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা-সহ নানা প্রশাসনিক কারণে তাঁকে সেখানে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় বলে জানানো হয়। এরপরই সভাস্থল বদলে গোঁসাইপুরে করা হয় আয়োজন।

Advertisement

শনিবার দুপুরে রাষ্ট্রপতি সেখানে পৌঁছনোর পর দেখা যায়, সভাস্থলে মানুষের উপস্থিতি খুবই কম। এমনকী তাঁকে স্বাগত জানাতে বাগডোগরা বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন কেবল শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব। সাধারণত প্রোটোকল অনুযায়ী মুখ্যমন্ত্রী বা রাজ্য সরকারের কোনও মন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানান। এদিন সেই রীতি পুরোপুরি মানা হয়নি বলেই অভিযোগ উঠেছে।

Advertisement

গোঁসাইপুরের সভামঞ্চ থেকেই রাষ্ট্রপতি এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। পরে সেখানকার অনুষ্ঠান শেষ করে তিনি সরাসরি বিধাননগরে আদিবাসীদের সমাবেশে পৌঁছে যান। সেখানেই বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্য প্রশাসনের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বিধাননগরে অনুষ্ঠান হলে অনেক ভালো হত। সেখানে পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে এবং অনেক মানুষ অংশ নিতে পারতেন। কিন্তু রাজ্য প্রশাসন কেন সেখানে সভার অনুমতি দেয়নি, তা আমি জানি না। এখানে মানুষের আসা খুবই কঠিন।’ তাঁর মন্তব্য, হয়তো সেই কারণেই গোঁসাইপুরের সভায় মানুষের উপস্থিতি কম।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উল্লেখ করে মুর্মু বলেন, ‘মমতা আমার ছোট বোনের মতো। আমিও বাংলারই মেয়ে এবং বাংলার মানুষকে ভালোবাসি। হয়তো মমতা রাগ করেছেন বলেই আমাকে স্বাগত জানাতে তিনি আসেননি, কোনও মন্ত্রীও আসেননি। তবে সেটি বড় বিষয় নয়।’ রাষ্ট্রপতির এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর চর্চা। রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে।

Advertisement